আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার পৃথক ভাবে তদন্ত করবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও ফলাফল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে জানানো হবে। শনিবার এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, 'ঘটনার আগে ও পরে যাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি নির্যাতিতার অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা।
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষণ ও খুনের শিকার হন ওই চিকিৎসক-ছাত্রী। প্রথমে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। মূল অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে। শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
তবে শুরু থেকেই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে সিবিআই নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করে। বৃহস্পতিবার সেই SIT হাই কোর্টে রিপোর্ট জমা দেয়। রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুরনো তদন্তের প্রভাবেই নতুন তদন্ত এগোচ্ছে।
এদিকে ঘটনার আগে নির্যাতিতার সঙ্গে রাতের খাবারে থাকা কয়েক জন জুনিয়র চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘সেই রাতে ঘটনার আগে ও পরে যাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাঁদের সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্বাস্থ্য দফতরের যারা যুক্ত, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত হলে সব জানা যাবে।’