ভারতের রেল পরিবহণে যুক্ত হল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তির পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আত্মনির্ভর ভারতের উদ্যোগে চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF)-তে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক ট্রেন আপাতত হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে চলাচল করবে।
রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটকে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেন ট্রেন পরিচালনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ট্রেন পরিচালনার সুবিধার্থে জিন্দে ইতিমধ্যেই অত্যাধুনিক হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাসের নিরাপদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (PESO)।
১০ কোচের এই আধুনিক ট্রেনে রয়েছে দুটি ড্রাইভিং পাওয়ার কার (DPC) এবং আটটি যাত্রীবাহী কোচ। দুটি পাওয়ার কার মিলিয়ে মোট ২,৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই ট্রেনে প্রায় ২,৬০০ যাত্রীর যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রীদের আরামের কথা মাথায় রেখে ট্রেনে দেওয়া হয়েছে স্বয়ংক্রিয় দরজা, উন্নতমানের ডিসি এয়ার কন্ডিশনিং, আরামদায়ক আসন এবং আধুনিক যাত্রীসুবিধা। ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার।
জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত যাত্রাপথে ট্রেনটি মোট ১২টি স্টেশনে থামবে। স্টেশনগুলি হল— জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেরা, ভামবেভা, ঈশাপুর খেরি, বুতানা, খান্দরাই, গোহানা, রাভরা, লাথ, মোহানা হরিয়ানা এবং বারওয়াসনি।
সময়সূচি অনুযায়ী, ৭৪০১০ নম্বর জিন্দ-সোনিপত হাইড্রোজেন ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে জিন্দ থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সোনিপতে পৌঁছবে। ফিরতি পথে ৭৪০০৯ নম্বর ট্রেনটি সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সোনিপত থেকে ছেড়ে দুপুর ১টায় জিন্দে পৌঁছবে।
বিশ্বে পরিবেশবান্ধব রেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই জার্মানি, জাপান, চিন এবং আমেরিকা হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি সুইৎজারল্যান্ডেও একটি হাইড্রোজেন ট্রেন চালু হয়েছে, যদিও সেটি ন্যারো গেজ রেলপথের জন্য নির্মিত। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ব্রড গেজ রেলপথে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু হওয়া দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেল মন্ত্রকের মতে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কেবল বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব রেল পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভারতের রেল ব্যবস্থাকে নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।