চাঁদের প্রতি বরাবরই অন্যরকমই আকর্ষণ রয়েছে মানুষদের। আগ্রহ রয়েছে কমবেশি বেশিরভাগ বিজ্ঞানীদের। এবার চাঁদে জল বরফের খোঁজে মহাকাশে নতুন দৌড় শুরু করতে চলেছে আমেরিকা ও চীন। লক্ষ্য এবার চাঁদের দক্ষিণ মেরু। ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করে সেখান থেকে আরও দূরের মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা দুই দেশেরই। আর সেই লড়াইয়ে আপাতত চিন কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাঁদের দক্ষিণ মেরু। কারণ সেখানে জল বরফ থাকার সম্ভাবনা অনেকখানি রয়েছে। ওই বরফ থেকে পানীয় জল অক্সিজেন এমনকি রকেট জ্বালানো তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে ভবিষ্যতের চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি বসতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে চাঁদের মাটিতে ল্যান্ডার পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। Pittsburgh-এর সংস্থা Astrobotic Technology-র তৈরি Griffin ল্যান্ডার ২০২৬ সালের শেষ দিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছনোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে। তবে দক্ষিণ মেরুর দুর্গম ও বিপজ্জনক ভূখণ্ডে অবতরণই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
একইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। Chang'e-7 অভিযানে ব্যবহৃত হতে চলেছে বিশেষ চার ধরনের রোবোটিক যান। সেগুলি হল অরবিটার, ল্যান্ডার, রোভার এবং একটি মোবাইল হপার। এগুলির সাহায্যে মাটির নিচে থাকা সম্ভবও জল বরফের সন্ধান মিলতে পারে।
তবে চীনের লক্ষ্য শুধু জল খোঁজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাঁদের জল যদি ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় পাওয়া যায় তাহলে পৃথিবী থেকে বিপুল পরিমাণ জল চাঁদে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। সেক্ষেত্রে চাঁদেই স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা যাবে। ভবিষ্যতে চাঁদকে গভীর মহাকাশ অভিযানের স্টেশন হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
অপরদিকে নাসার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যে ফের চাঁদের মাটিতে মহাকাশচারী পাঠানো। কিন্তু প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সময়সীমা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এই তথ্য সামনে না আসলে চাঁদের অজানা দক্ষিণ মেরুতে নিরাপদে অবতরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফের অবস্থান শুধু বৈজ্ঞানিক বিষয়ে তা নয়। এটি ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতি, চাঁদে মানব বসতি এবং মঙ্গল অভিযানের দরজা খুলে দেওয়ার চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে এই জলবরফ বলে মনে করা হচ্ছে।