নিউজ ডেস্ক: ফের ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কাঁপল পাকিস্তান। শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান শহরের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। তাঁদের মধ্যে ৭ পুলিশকর্মী রয়েছে বলে খবর। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। পাকিস্তানের জরুরি পরিষেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর তরফে হতাহতের এই সংখ্যা জানানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরে আমান মেলা এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে। ডেরা ইসমাইল খান-কোয়েটা সড়কের মুঘল কোট ও দারাজিন্দার মধ্যবর্তী এলাকায় ওই চেকপোস্টটি অবস্থিত। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি চেকপোস্টে ধাক্কা মারার পরই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে চেকপোস্টের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও অ্যাম্বুল্যান্স ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের কাজও চালানো হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি শুরু করেছে।
রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফাইজি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরেই দারাজিন্দা স্টেশনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করে। আহত হওয়া ৩০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনের মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল? কোথায় বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল এবং হামলার পিছনে কারা কারা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পাকিস্তানি প্রশাসন। বিস্ফোরণের পর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে, হামলার দায় পাকিস্তান তালিবান বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) স্বীকার করেছে বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে। ডেরা ইসমাইল খান ও তার আশপাশের অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি হামলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাম্প্রতিক সময়েও নিরাপত্তাবাহিনী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা হয়েছে।
সম্প্রতি, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় শুক্রবারের নমাজ়ের সময়ে একটি মসজিদের কাছে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন পুলিশকর্মী ও ১১ জন সাধারণ নাগরিক ছিলেন। তার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান।
