দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল একটি আবাসন। চারিদিকে ছিল নীরবতায় ঘেরা। সেই আবাসনের ভেতরেই যে এই কাণ্ড ঘটে থাকবে তা কল্পনা করতে পারেননি কেউ। হঠাৎ এসটিএফ এর অভিযানে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ আশেপাশের মানুষদের। পরিত্যক্ত আবাসন থেকে উদ্ধার হল একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র এবং তাজা কার্তুজ। ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলে।
পুলিশের হেফাজতে থাকা দুই কয়লা মাফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বেঙ্গল এসটিএফ-এর একটি টিম ওই আবাসনে অভিযান চালায় শনিবার রাতে। আর এই পরিত্যক্ত আবাসন থেকে ১৫-টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে এসটিএফ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে পাইপগান এবং একটি পিস্তল রয়েছে বলে জানা গিয়েছে বলে এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে পরিত্যক্ত এই আবাসনে কিভাবে এই জিনিসগুলি এল তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি এসটিএফ-এর কাছ থেকে।
এই অস্ত্র উদ্ধারের পিছনে রয়েছে দুই কুখ্যাত কয়লা কারবারি। সামশের হোসেন এবং খইরুল। গত মাসেই খইরুলকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। সামশেরকে মঙ্গলবার ঝাড়খন্ডের রাঁচি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা দুই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালান। আর সেই তদন্তেই বেশ কিছু ক্লু তাদের সামনে উঠে আসে। আর সেই সূত্র অনুসারে শনিবার ধৃত দুই কয়লা কারবারিদের নিয়ে অন্ডালের ওই পরিত্যক্ত আবাসনে যান তদন্তকারীরা। আর তাতেই উদ্ধার হয় এই বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র।
ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি কয়লা কারবারের সঙ্গে এই দুই অভিযুক্তের যোগের অভিযোগ রয়েছে। ফলে কয়লা কারবারের আড়ালে অস্ত্রের কারবারও চলত কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনা নেপথ্যে ঠিকই উদ্দেশ্য ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়লা কারবারের পাশাপাশি অস্ত্রো পাচারের কাজ চলতো কিনা সেদিকেও নজর দিচ্ছে তদন্তকারীরা। দৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। আগামীদিনে এই ঘটনার মোড় কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।