শ্রীরামপুর: হুমকি, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগের পর থেকেই নিখোঁজ শ্রীরামপুর পৌরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর উত্তম রায়। তাঁকে খুঁজতে এবার তাঁর বাড়িতে ফের হাজির হল পুলিশ। কিন্তু বাড়িতে গিয়েও প্রাক্তন কাউন্সিলরের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর স্ত্রীকে পুলিশের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—উত্তম রায়কে থানায় যোগাযোগ করতে বলতে হবে, তা না হলে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
শ্রীরামপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর উত্তম রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শ্রীরামপুর থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে হুমকি এবং তোলাবাজির মতো গুরুতর বিষয়ও রয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তের সূত্রেই পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তম রায়ের বাড়িতে যায় পুলিশ। কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর স্ত্রী বাইরে বেরিয়ে এলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সেই সময়ই পুলিশ জানিয়ে দেয়, এভাবে বারবার বাড়িতে এসে তাঁকে খোঁজা সম্ভব নয়।
উত্তম রায়ের স্ত্রীকে পুলিশ বলে, “উত্তমকে থানায় আসতে বলুন। নাহলে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বলুন। বারবার পুলিশ আসবে না।”
এরপরও পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চায়। উত্তমের স্ত্রী জানান, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তখন পুলিশ পাল্টা জানতে চায়, স্বামীর সঙ্গে কবে শেষ কথা হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য ছিল, যদি যোগাযোগ থাকে, তাহলে উত্তম রায়কে থানায় যোগাযোগ করতে বলা হোক।
পুলিশের এক আধিকারিক উত্তমের স্ত্রীকে বলেন, “বারবার বলে দিচ্ছি, এটা বাজে হচ্ছে। এরকমভাবে হবে না। পুলিশ রোজ রোজ দৌড়াবে? উনি সারেন্ডার করুন।” এরপর তাঁকে থানায় আসার অথবা আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শুধু বাড়ির সদস্যদের কাছেই নয়, উত্তম রায়ের বাড়ির সামনের একটি দোকানের মালিকের কাছেও তাঁর বিষয়ে জানতে চান পুলিশ আধিকারিকরা। তিনি বর্তমানে কোথায় রয়েছেন বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়।
তবে মঙ্গলবারই প্রথম নয়, এর আগেও উত্তম রায়ের বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ। সেবারও তাঁর দেখা মেলেনি। এরপর ফের পুলিশ তাঁর বাড়িতে পৌঁছয়। বারবার বাড়িতে না এসে এবার তাঁকে থানায় যোগাযোগ করতে অথবা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে পুলিশ।
এই ঘটনার সঙ্গে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার সময়সূচির বিষয়টিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। সভার আগে উত্তম রায়-সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন কাউন্সিলরকে নিয়ে পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
এর আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন জামাই তথা বিজেপি নেতা কবীর শঙ্কর বসুর অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় উত্তম রায়কেও পুলিশ খুঁজছে বলে জানা গিয়েছে।
উত্তম রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। আপাতত পুলিশের বার্তার পর উত্তম রায় থানায় যোগাযোগ করেন কি না বা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
