
বারাসতের দক্ষিণপাড়ায় অবস্থিত চট্টোপাধ্যায় পরিবারের ঐতিহ্যবাহী শিবকুঠির দুর্গাপুজো। প্রায় ৪৫৪ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই পুজো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই নিষ্ঠায় চলে আসছে। ইতিহাস ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দেবীর আরাধনা এক আলাদাই মাত্রা পায়।

অষ্টমীর দিন শিবকুঠির দুর্গাপুজোয় ধুনো পোড়ানোর রীতি প্রচলিত, যা এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ। এলাকার প্রবীণ মহিলারা দেবী প্রতিমার সামনে এই ধুনো পোড়ান। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মানুষজন তাঁদের কোলে বসেন। প্রচলিত বিশ্বাস, এই রীতি পালন করলে সারা বছর সুস্থ-সবল থাকা যায়।

মুঘল আমলের এক দীর্ঘ্য ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে শিবকুঠির দুর্গাপুজোর সঙ্গে। কথিত রয়েছে, যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের প্রধান সেনাপতি ছিলেন সর্দার শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। বন্দি দশায় পিতৃ তর্পণের অনুমতি না পেয়ে তিনি কারাগারে অনশন শুরু করেছিলেন। পরে যমুনার তীরে সেনা প্রহরায় তাঁকে তর্পণ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

শঙ্করের মন্ত্রোচ্চারণে মুগ্ধ হয়েছিলেন রাজমাতা যোধাবাঈ। স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাজমাতা শঙ্করকে দুর্গাপুজো শুরু করার নির্দেশ দেন। শিবের উপাসক শঙ্করের হাত ধরে শুরু হওয়ায় পুজোর নাম হয় শিবকুঠির দুর্গাপুজো।

পুজোর প্রতিটি দিনেই চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে দেবীর উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করা হয়। তবে দশমীর ভোগে রয়েছে বিশেষ রীতি।পান্তাভাত ও কচু শাক খেয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন উমা। এই পুজোয় সন্ধ্যার আগেই দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার প্রথা রয়েছে। প্রাচীন এই নিয়ম আজও নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলেন পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘ সাড়ে চার শতাব্দীর ইতিহাস পেরিয়েও আজও অটুট শিবকুঠির দূর্গাপুজো। যেখানে বিসর্জনের পরও নিয়ম মেনে হয় সত্যনারায়ণ পুজো। আর তারপরই পালিত হয় বিজয়া দশমী। শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন পুজোর নানা আচার-অনুষ্ঠানে।