পুরুলিয়া, নিউজ ডেস্ক: কয়েক মাস আগেও সেখানে চলত ব্যবসার ব্যস্ততা। বাইক কেনাবেচা, ক্রেতাদের আনাগোনা, সবই চলছিল স্বাভাবিক পদ্ধতিতে। কিন্তু, একটি অভিযোগের তদন্ত সামনে আসতে সেই ছবি বদলে গেল। মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছল প্রশাসন, যার জেরে কার্যত বিপাকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা।
পুরুলিয়া জেলার আদ্রায় ব্যাংক আর্থিক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক হোন্ডা অটোমোবাইলসের মালিক অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল জেলা পুলিশ। আদালতের নির্দেশে আদ্রার বেনিয়াসোল এলাকায় অভিযুক্ত ও তাঁর স্ত্রী সুমনা সাহা ব্যানার্জীর নামে থাকা বাইক শোরুম ও জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান পুরুলিয়া জেলা পুলিশসুপার কুমার সান্নি রাজ।
পুলিশ সূত্রে দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের মধ্যে পুরুলিয়া জেলাতেই প্রথম 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা'-র ১০৭ ধারায় আদালতের অনুমতি নিয়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মোট ১০২ জন গ্রাহকের নথি জাল করে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়ে প্রতারণা চালান কাঁটারাঙ্গুনির বাসিন্দা অভিষেক ব্যানার্জী।
অভিযোগ, গ্রাহকদের নথি ব্যবহার করে ঋণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর ব্যাঙ্কের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে গত ২০ জুলাই অভিষেক ও তাঁর শোরুম কর্মী রাহুল সিংকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্ত আরো এগিয়ে নিয়ে অভিযুক্তের সম্পত্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।
মঙ্গলবার রঘুনাথপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহেদ শেখ, আদ্রা থানার আইসি আশীষ মজুমদার ও তদন্তকারী আধিকারিক গৌরহরি ঘোষালের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। বেনিয়াসোল এলাকায় থাকা বাইক শোরুম ও জমি সিজ করা হয়। পুলিশের হিসেবে অনুযায়ী, ওই সম্পত্তির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। ব্যাঙ্ক প্রতারণার এই মামলায় তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।