কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কিভাবে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠতে পারে এত বড় প্রশ্ন? অভিযোগের সূত্রপাত অবশ্য আজকের নয়। বরং বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে বলে দাবি করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি, নির্বাচন কমিশনকে বর্তমান সরকার নিজেদের নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনার মত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। শুধু প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখাই নয়, এই নিয়ে তিনি আগেও সংসদে সরব হয়েছিলেন বলে দাবি কংগ্রেস নেতার। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ আজকের নয়। প্রায় দু-তিন বছর আগে তিনি সংসদে এ নিয়ে কথা তুলেছিলেন। এমনকি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত বৈঠকেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন নেতা।
অধীরের বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয়ের সৃষ্টি হচ্ছে, তা দুর করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। একইসঙ্গে, নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবী ও জানিয়েছেন তিনি। এখানেই থেমে থাকেনি কংগ্রেসের এই নেতা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কংগ্রেস সাংসদ তথা দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের প্রসঙ্গও। অধীরের দাবি, রাহুল গান্ধী সারাদেশ জুড়ে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন এবং এই ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস।’
পাশাপাশি তিনি এও বলেন, 'নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্নগুলি কংগ্রেস দীর্ঘদিন তুলে আসছে, সেগুলি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে কংগ্রেসের এই অভিযোগ ঘিরে ফের রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে, কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর তোলা অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। এখন, এ বিষয়ে বিতর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।