কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: অভিষেকের বিদেশ সফর ও প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক তরজা, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি টেনে কড়া বার্তা বিরোধী শিবিরের ঋতব্রতর। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফর এবং তাঁর দেশে ফেরা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি।
সাম্প্রতিক সময়ে শাসকদলের এই শীর্ষ নেতার সফর ও প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জন ও জল্পনার প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি তোপ দাগল বিরোধী শিবির। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নজরদারির প্রসঙ্গ টেনে শাসক দলকে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিরোধী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন তিনি, যা বলবেন ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলবেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান, দায়িত্ব এবং তাঁর বিদেশ সফরের স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষিতে বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুরো বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন ও কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ইচ্ছামতো কোথাও যাননি, বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ নির্দেশ এবং প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি সাপেক্ষেই তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন। ফলে তিনি কতদিন সেখানে অবস্থান করবেন কিংবা ঠিক কবে দেশে ফিরে আসবেন, তা সম্পূর্ণভাবে শীর্ষ আদালত, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনানুগ ব্যবস্থার এক্তিয়ারভুক্ত।
বিচারবিভাগীয় ও প্রশাসনিক এই প্রক্রিয়ার বাইরে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার আগে আগাম কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর অবকাশ নেই বলেই তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই বক্তব্যের পরেই সুর চড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে দেন, সুপ্রিম কোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে শর্ত ও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তা মানা বাধ্যতামূলক। সেই নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই তাঁকে দেশে ফিরতে হবে। বিরোধীরা গোটা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, আদালত নির্ধারিত সেই সময়সীমা যদি কোনোভাবে অতিক্রান্ত হয় এবং তারপরও তিনি দেশে না ফেরেন, তবে বিরোধী শিবির তা বিনা প্রতিবাদে ছেড়ে দেবে না।
ঋতব্রতবাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি দেখা যায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে, তবে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে দলীয় স্তরে বিশদ পর্যালোচনায় বসবে। আইন ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিরোধী দল তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করবে।
