তিনি যেখানে, বিতর্কও সেখানে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফের বিতর্ক। আরও একবার জোড়া অভিযোগে নাম জড়াল তৃণমূলের এই সাংসদের। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার দ্বারস্থ অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। ২০২০ সালের একটি ঘটনার কারণেই এই অভিযোগ। অন্য অভিযোগটি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির।
এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তদন্তের নির্দেশ কৃষ্ণনগরের আদালতের। বিচারক তরুণ মণ্ডল জানিয়েছেন, 'পুলিশকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।' আবার অন্যদিকে,ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি-কে 'দশ পাতার চিঠি' লিখে অভিযোগ করেন ববি। তাঁর দাবি, '২০২০ সালের ৬ অক্টোবর ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে শমীক এবং তাঁর সহযোগীদের উপর হামলা চালানো হয়। পরিকল্পনা করেই হামলা চালানো হয়েছিল।'। ববির দাবি,'ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।'
অভিযোগপত্রে ববি অভিষেক অনুগামীদের ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলে উল্লেখ করেন।ওই অভিযোগপত্রতিতে অভিষেক ছাড়াও নাম আছে জাহাঙ্গির খান, সুমিত রায়, গৌতম অধিকারী, শামিম আহমেদ-সহ আরও ৭৮ জনের। ববির কথা অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটে 'স্রোতেরপোল' এলাকায়। তবে ঘটনার সময় ববি শমীকের গাড়িতে ছিলেন না। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও নন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছিলেন। এই ঘটনার পরে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়। ববির অভিযোগ, সে সময় পুলিশ এ ব্যাপারে কোনও কর্ণপাত করেনি।এই কারণেই অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারকেও পাঠান ববি।
সরকারি জমির মাটি কেটে বেআইনি ভাবে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। কৃষ্ণনগর আদালত সূত্র জানাচ্ছে, গত ১৫ জুলাই কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষ কৃষ্ণনগর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বাপন ঘোষের অভিযোগ, '২০১৬ সাল থেকে নদিয়ার কালীগঞ্জ ব্লক এবং মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩৩ হাজার বিঘা সরকারি ও ভেস্টেড জমির মাটি কেটে বেআইনি ভাবে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু মাটিই নয়, সরকারি জমিতে থাকা প্রচুর মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।'
অভিযোগকারীর দাবি, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন অভিষেক।তারই ইশারায় বেআইনি ভাবে মাটি ও গাছ বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় হয়েছে।এই মামলায় নাম জড়িয়েছে কালীগঞ্জের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখেরও। মোট ৩০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন মামলাকারী। বাপন ঘোষের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানান, 'দিনের পর দিন ধরে বেআইনি ভাবে মাটি ও গাছ কাটা নিয়ে বন দফতর এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। উল্টে মামলাকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
সমস্ত নথি ও যুক্তি পর্যালোচনার পরেই আদালত এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।' বাপন আরও বলেছেন, ‘'দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি উদ্ধার এবং পরিবেশরক্ষায় লড়ছি। অবশেষে বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা ফিরে পেলাম।'
তবে এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চক্রান্ত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।