চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আপাতত তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিল না আদালত। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চোখের পরীক্ষা করাতে হবে অভিষেককে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে যেতে হবে অভিষেককে। সেখানে চক্ষু বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে। ওই বোর্ড অভিষেকের চোখের সমস্যা এবং তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে মতামত দেবে। শুক্রবার সেই মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথা।
অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় চোখের চিকিৎসা চলছে। সেই চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের তরফে বিদেশযাত্রার বিরোধিতা করা হয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্তের কাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও সওয়াল করে রাজ্য।
এর আগে গত ২০ জুলাই মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট জানতে চেয়েছিল, কলকাতার কোনও চক্ষু হাসপাতাল থেকে অভিষেক চিকিৎসা বা পরামর্শ নিয়েছেন কি না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা আগে কলকাতার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত থেকে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
হাই কোর্ট জানিয়েছিল, এসএসকেএমের বিশেষজ্ঞরা যদি মনে করেন যে অভিষেকের চোখের সমস্যার চিকিৎসা কলকাতায় সম্ভব নয় এবং বিদেশে চিকিৎসা করানো জরুরি, সেক্ষেত্রে সেই মেডিক্যাল মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর পরেই অভিষেক এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটি ফের হাই কোর্টেই পাঠিয়ে দেয়। ফলে এখন এসএসকেএমের মেডিক্যাল রিপোর্টের দিকেই নজর রয়েছে।
শুক্রবার মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পর অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হতে পারে। আপাতত আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার আগে কলকাতাতেই চোখের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে হবে তাঁকে।