স্পোর্টস ডেস্ক: যে উইকেটে রান তুলতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল ব্যাটারদের, সেই পিচেই পাকিস্তানের সামনে ২১২ রানের পর্বতসম লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিল ভারত। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন অভিষেক শর্মা এবং তিলক ভার্মা। জাপানের নিসশিনে তাঁদের ব্যাটে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তুলল টিম ইন্ডিয়া। শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন অভিষেক। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও রানের গতিতে ভাটা পড়তে দেননি টিম ইন্ডিয়ার বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে শেষ দিকে তিলকের ঠান্ডা মাথার ইনিংস ভারতকে পৌঁছে দেয় বড় রানের মঞ্চে। এ বার সোনা জিততে পাকিস্তানকে কার্যত চড়তে হবে এভারেস্ট।
ব্যাট হাতে এ দিন ফের নিজের জাত চেনালেন অভিষেক। মাত্র ২৮ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন তিনি। তিনটি চার এবং সাতটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস যেন কঠিন পিচকেও তুচ্ছ করে দিল। এশিয়াড ফাইনালের মঞ্চে অভিষেকের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের মধ্যেই এল আরও একটি বড় নজির। ২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ক্যালেন্ডার বছরে ১০০টি ছক্কা মারার কীর্তি গড়লেন তিনি। ২০২৫ সালে ১০৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার। এ বারও একশোর গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন। মাত্র ৬৫১ বলে ২০২৬ সালে ১০০টি টি-টোয়েন্টি ছক্কা পূর্ণ করে অভিষেক গড়েছেন আরও একটি বিশ্বরেকর্ড। এই তালিকায় তাঁর আগে রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, যিনি ২০১৯ সালে ৫৮৯ বলে এই নজির গড়েছিলেন। অভিষেক পিছনে ফেলেছেন ডেভাল্ড ব্রেভিস এবং ক্রিস গেইলকেও।
শেষ দিকে অভিষেকের আক্রমণকে পূর্ণতা দেন তিলক ভার্মা। অপরাজিত ৫১ রান করে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে রয়েছে তিনটি চার এবং একটি ছক্কা। গত বছর দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিলকের ব্যাটে এসেছিল ম্যাচ জেতানো ৬৯ রান। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এ বারও বড় ম্যাচে দলের প্রয়োজনের সময় দাঁড়িয়ে গেলেন তিনি। পাশাপাশি মূল্যবান অবদান শিবম দুবেরও। ১৫ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ফাইনালে শিবমের এমন পারফরম্যান্স যেন এখন পরিচিত ছবি—গত দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং এশিয়া কাপের ফাইনালের পর এ দিনও বড় মঞ্চে ব্যাট হাতে অবদান রাখলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে এল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি, যা ভারতের স্কোরকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করাতে সাহায্য করে।
তবে অভিষেক, তিলক, শিবম ছাড়া ভারতের বাকিরা এ দিন ব্যর্থ। বৈভব সূর্যবংশী থামলেন ১৫ রানে। ঈশান কিষাণের ব্যাট থেকে এল ২০। বড় রান করতে পারলেন না অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও (২১)। ব্যর্থ সঞ্জু স্যামসনও। ফলে মাঝের দিকে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল ভারতীয় শিবিরে। কিন্তু সেই চাপ কাটিয়ে অভিষেকের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং তিলকের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ ম্যাচের ছবিটাই বদলে দিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৮ বলে অর্ধশতরান করা অভিষেক এ দিনও বড় মঞ্চে দ্রুত পঞ্চাশের গণ্ডি পেরোলেন। এ বার তাঁর পঞ্চাশ এল ২০ বলে। কঠিন পিচে যা ফাইনালের চাপকে দ্বিগুণ করে তুলল পাকিস্তানের সামনে। এখন ভারতীয় বোলারদের সামনে কাজ একটাই। এই পুঁজি আগলে রেখে সোনার পদক নিশ্চিত করা।
