কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: শক্তিশালী ভূমিকম্প আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ধরা পড়ে ৫.৪৪। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল ৬টা ৫৯ মিনিট নাগাদ কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ফলে এই কম্পনের জেরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। জার্মানির ভূ-বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা জিএফজেড (GFZ German Research Centre for Geosciences) এই ভূমিকম্পের খবর জানিয়েছে। সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হয়।
জিএফজেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মিন টাইম রাত ১টা ২৯ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয়। ভারতীয় সময় তখন সকাল ৬টা ৫৯ মিনিট। ভূমিকম্পের উৎসস্থলের অক্ষাংশ ছিল ৩৬.০৫ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৬৮.৮৭ ডিগ্রি পূর্ব। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের উৎসস্থল হওয়ায় ভূমিকম্পটি অগভীর বলেই বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণত একই মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে উৎসস্থল যত অগভীর হয়, তার কাছাকাছি এলাকায় কম্পনের তীব্রতা তত বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে এই ভূমিকম্পের জেরে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হিন্দুকুশ পর্বতমালা অবশ্য এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে থাকা এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। হিন্দুকুশ-পামীর পার্বত্য এলাকায় কখনও অগভীর, আবার কখনও অনেক গভীরে ভূমিকম্পের উৎসস্থল তৈরি হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে জটিল ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ও ইউরেশীয় ভূত্বকীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে হিমালয়, হিন্দুকুশ-সহ বিস্তীর্ণ পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই দুই পাতের ক্রমাগত সংঘর্ষের জেরে ভূগর্ভে চাপ জমতে থাকে। সেই চাপ মুক্ত হওয়ার সময়ই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরেও হিন্দুকুশ অঞ্চলে একাধিক মাঝারি ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলির নজরেও এসেছে এমন বহু ঘটনা। বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পের অগভীর উৎসস্থল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব উৎসস্থলের আশপাশে তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। তবে কম্পনের মাত্রা ও গভীরতার পাশাপাশি স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং নির্মাণের ধরনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আপাতত আফগানিস্তানের এই ভূমিকম্পে প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির কোনও নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
