কলকাতা: ব্রাজিলের মতো বিশ্ব ফুটবলের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। উরুগুয়ে ও পানামার বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল তারা। কিন্তু মাঠের সেই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার পর এবার বড় আর্থিক চাপে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে প্রায় ৮০-৮৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেডারেশনের ফিক্সড ডিপোজিট বা FD ভাঙানোর প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সূত্রের খবর, গত রবিবার ফেডারেশনের সাধারণ সভায় এই আর্থিক ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে AIFF সভাপতি কল্যাণ চৌবে ম্যাচ আয়োজনের খরচ মেটাতে ফিক্সড ডিপোজিটের অর্থ ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, আপাতত FD ভেঙে আর্থিক ঘাটতি সামাল দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই টাকা আবার জমা করা হবে।
তবে কল্যাণ চৌবের এই প্রস্তাবে আপত্তি জানান ফেডারেশনের অধিকাংশ সদস্য। AIFF-এর সহ-সভাপতি এন এ হ্যারিসও এর বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, ফিক্সড ডিপোজিট না ভাঙার বিষয়ে আগেই ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ফলে সেই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে FD ভাঙার প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সভায় একাধিক সদস্য ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে যদি এত বিপুল পরিমাণ অর্থের ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের খরচ কীভাবে চালানো হবে? সন্তোষ ট্রফির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা আয়োজন, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট এবং তৃণমূল স্তরে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
তবে ঠিক কত টাকা ঘাটতি হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ম্যাচ আয়োজন সংক্রান্ত আর্থিক চুক্তিতে গোপনীয়তার শর্ত থাকায় এই তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এক রাজ্য ফুটবল সংস্থার কর্তা।
উল্লেখ্য, এই তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের আগে শোনা গিয়েছিল, এর জন্য ফেডারেশনকে নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে না। কিন্তু এবার FD ভাঙানোর প্রস্তাব সামনে আসায় সেই দাবি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় ফুটবলের আন্তর্জাতিক পরিসরে বড় দলগুলির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ তৈরি হলেও, তার আর্থিক দায় কতটা এবং সেই খরচের প্রভাব ঘরোয়া ফুটবলে কীভাবে পড়বে, এখন সেটাই বড় আলোচনার বিষয়।




