স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটের আঙিনা থেকে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল - নিখিল চৌধুরির যাত্রাটা বেশ নাটকীয়। একসময় পাঞ্জাবের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সতীর্থ হিসাবে পেয়েছেন যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, শুভমান গিল এবং অভিষেক শর্মার মতো ক্রিকেটারদের। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ট্রায়ালও দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে সেই নিখিলকেই এখন দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেলেন দিল্লিতে জন্মানো এই অলরাউন্ডার।
সোমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ এবং পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দুই দলেই অধিনায়ক মিচেল মার্শ। টি-টোয়েন্টি দলে নিখিলের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন জোয়েল ডেভিস, জ্যাক এডওয়ার্ডস, স্যাম হার্পার এবং লাচলান শ-র মতো ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা এই সিরিজে একাধিক নতুন মুখকে সুযোগ দিতে চাইছেন। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিকেও নজর রয়েছে তাঁদের।
নিখিলের দলে জায়গা পাওয়ার খবর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তাঁর ক্রিকেটজীবনের জন্য। ১৯৯৬ সালের ৪ মে দিল্লিতে জন্ম তাঁর। পঞ্জাবের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন। সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেটের একাধিক পরিচিত মুখের সঙ্গে একই সাজঘর ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর। কিন্তু ২০২০ সালে কোভিড অতিমারির সময় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আটকে পড়েন নিখিল। আন্তর্জাতিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। সেই পরিস্থিতিতেই অস্ট্রেলিয়ায় থেকে ক্রিকেটজীবন নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পথটা সহজ ছিল না। ক্রিকেটের পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য নানা কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। ব্রিসবেনে একটি মেক্সিকান রেস্তরাঁয় কাজ করেছেন, পরে ডাক বিভাগের পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার কাজও করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। ব্রিসবেনের নর্দার্ন সাবার্বস ক্লাবে তাঁর কোচ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অলরাউন্ডার জেমস হোপস। তাঁর সুপারিশেই হোবার্ট হারিকেনসের নজরে আসেন নিখিল। ২০২৩ সালে বিগ ব্যাশে হোবার্টের হয়ে সুযোগ পান। ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।
২০২৪-২৫ মরসুমে হোবার্ট হারিকেনসের বিগ ব্যাশ জয়ের পিছনেও অবদান ছিল তাঁর। পরের মরসুমে ব্যাট হাতে ৩০৭ রান করেন। গড় ৩০.৭০, স্ট্রাইক রেট ১৫৩। মাঝের সারিতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি অফস্পিনও করতে পারেন তিনি। বিগ ব্যাশে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের নজরে আসেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান। সেই সিরিজেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৬ রান করার পাশাপাশি দু’টি উইকেট নিয়েছেন নিখিল।
এবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও একটি সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক প্রধান জর্জ বেইলি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সফরগুলিতে সুযোগ পাওয়া একাধিক ক্রিকেটারের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার ভাল মঞ্চ এই সিরিজ। তাঁর কথায়, ‘এই একদিনের এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলি বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিজেদের দক্ষতা আরও একবার দেখানোর সুযোগ দেবে। সাম্প্রতিক সফরগুলিতে তাঁদের মধ্যে অনেকেই সুযোগ পেয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করার এটাই সময়।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার একদিনের সিরিজ শুরু ১৩ নভেম্বর পারথে। দ্বিতীয় ম্যাচ ১৫ নভেম্বর অ্যাডিলেডে, তৃতীয় ম্যাচ ১৮ নভেম্বর হোবার্টে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ২১ নভেম্বর মেলবোর্নে। এরপর ২৪ নভেম্বর গোল্ড কোস্ট, ২৭ নভেম্বর ব্রিসবেন, ২৯ নভেম্বর সিডনি এবং ২ ডিসেম্বর ক্যানবেরায় হবে বাকি চারটি ম্যাচ।
অস্ট্রেলিয়ার একদিনের দল থেকে বাদ পড়েছেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজলউড। আসন্ন টেস্ট সূচির কথা মাথায় রেখেই তাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। টি-টোয়েন্টি দলেও নেই এই তিন অভিজ্ঞ পেসার। ফলে নতুনদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করাই এখন নিখিলের লক্ষ্য।




