নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে আকৃষ্ট করতে চাইছে আর্জেন্টিনা। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের লক্ষ্য, দেশকে এআই শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা। বিশেষ করে বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন এমন ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ টানতে উদ্যোগী তাঁর সরকার।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন বণিকসভার অনুষ্ঠানে মাইলেই বলেন, ‘আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছি না। আমরা একে স্বাধীন ভাবে চলতে দেব।’ তাঁর সরকারের আশা, এই নীতি আর্জেন্টিনাকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবে। ইতিমধ্যেই ওপেনএআই, অ্যামাজন, গুগল, ওরাকল-সহ একাধিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাইলেই এবং তাঁর সহযোগীদের বৈঠক হয়েছে।
এই পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্র প্যাটাগোনিয়া অঞ্চল। বিস্তীর্ণ ফাঁকা জমি, ঠান্ডা আবহাওয়া, প্রবল বায়ুপ্রবাহ এবং ভাকা মুয়ের্তার বিপুল শেল গ্যাসের ভান্ডার—সব মিলিয়ে ডেটা সেন্টার তৈরির উপযুক্ত জায়গা বলে মনে করছে সরকার। পোল্যান্ডের সংস্থা গ্রিন ক্যাপিটাল সেখানে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করেছে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কর্পোরেট আয়করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও এনেছেন মাইলেই। তবে সেই প্রস্তাব এখনও সেনেটের অনুমোদন পায়নি।
কিন্তু এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল বিদ্যুৎ ও জলের প্রয়োজন স্থানীয় মানুষের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। ট্রেলিউ শহরের বাসিন্দাদের একাংশ ইতিমধ্যেই ‘ডেটা সেন্টারমুক্ত ট্রেলিউ’ আন্দোলন শুরু করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, বিদেশি সংস্থাগুলির স্বার্থে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কতটা ব্যবহার করা হবে?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণহীন এআই ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে এক দিকে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা, অন্য দিকে পরিবেশ ও তথ্যের নিরাপত্তা—দুইয়ের টানাপড়েনেই মাইলেইয়ের এআই পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।




