কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মমতাদির থেকে মুক্তি পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কড়া জবাব দিয়েছে তৃণমূলকে। বাংলায় রাম রাজ্য চলছে। বাংলায় হেরে দিল্লিতে গিয়ে কাঁদছেন। ২০২৯-এ ফের মোদীজি আসবে। তৃণমূলের গুণ্ডাগিরি শুভেন্দুজি বন্ধ করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তোলাবাজি সমাপ্ত। ধর্মতলায় বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও কর্মসূচি থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।
রবিবার কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পদযাত্রা শেষে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূলের বিগত শাসনকাল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একযোগে নিশানা করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। মমতা তোপ দেগে নিতিন বলেন, 'গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। দিদি ক্ষমতা থেকে গিয়েছেন, আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে অরাজকতার নাম-নিশানও মুছে গিয়েছে। এখনও কিছু লোক রয়ে গিয়েছেন। যারা রামলীলা ময়দানে গিয়ে হারের হতাশা, নিরাশার জন্য চোখের জল ফেলেছেন।'
পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'SIR মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও। তাই আজকে এরা অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে। দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী, ভ্রষ্টাচারী, এইসবকে উপড়ে ফেলার কাজ আমাদের করতে হবে। এই আরশোলা, ছারপোকা, টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে সাবধান থাকবেন। সেইসঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগম নির্বাচনে ওদের সাফ করে জবাব দিয়ে দেব।'
কলকাতার পাশাপাশি এদিন হায়দরাবাদেও একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির দাবি, বিরোধীদের মিথ্যাচার এবং অরাজকতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এই কর্মসূচি। হায়দরাবাদে একই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। দিল্লিতে বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক সমাবেশকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সেটি ভোট বাঁচানোর নয়, বরং অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর কর্মসূচি ছিল। এসআইআরের মাধ্যমে তিন কোটি ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়ায় বিরোধীরা আপত্তি জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিহারের ভাগলপুরে কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেছিলেন নীতীন নবীনও। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের কাছে ক্ষমতা দখলই প্রধান লক্ষ্য, অন্যদিকে বিজেপির কাছে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা অগ্রাধিকার। তামিলনাড়ু ও কেরলে এসআইআরের পরেও বিরোধীরা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।




