ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ২০২৬ সালের লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। শনিবার এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি আধিকারিকরা। অমিত শাহ বলেন, অজিত দোভাল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে নীরবে কাজ করে যাওয়া মানুষদের সম্মান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুরস্কার গ্রহণ করে অজিত দোভাল এই সম্মান দেশের নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, এই পুরস্কার শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করে চলা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগের কথাও স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মকে দেশসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অজিত দোভাল ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয় এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বহুবার আলোচনায় এসেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করেছেন তিনি। সাইবার নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।
লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের আদর্শ ও দেশসেবার চেতনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর এই জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। চলতি বছরে অজিত দোভালের নাম সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানকে এই সম্মানের মাধ্যমে আরও একবার স্বীকৃতি দেওয়া হল।