স্পোর্টস ডেস্ক: এ যেন শেষ মুহূর্তে বাজিমাতের এক রুদ্ধশ্বাস গল্প। শুরুতে নিয়ন্ত্রণ, মাঝপথে হঠাৎ ছন্দপতন, তার পর আবার দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নিজের সেরা লড়াইগুলির অন্যতম উপহার দিলেন আমন শেহরাওয়াত। পুরুষদের ফ্রিস্টাইল ৫৭ কেজি বিভাগের ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার হান চং সংকে ১১-৭ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতলেন ভারতের এই তরুণ কুস্তিগির। এক সময় ৬-৭ পিছিয়ে পড়েছিলেন আমন। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্বে অসাধারণ লড়াইয়ে ফের ঘুরে দাঁড়িয়ে সোনা নিশ্চিত করলেন তিনি। ২০২৬ এশিয়ান গেমসে কুস্তিতে ভারতের জন্য এটি দ্বিতীয় সোনা। তার আগে পুরুষদের ফ্রিস্টাইল বিভাগে সোনা জিতেছেন সুজিত কালকালও।
ফাইনালের শুরুটা অবশ্য আমনের জন্য একেবারেই সহজ ছিল না। উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষ বার বার তাঁর বাঁ পা লক্ষ্য করে আক্রমণ করছিলেন। আমন প্রথম দিকে মূলতঃ রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। প্যাসিভিটির জন্য একটি পয়েন্ট খোয়াতে হয় তাঁকে। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি ভারতীয় কুস্তিগির। দ্রুত টেকডাউন করে ম্যাচে নিজের খাতা খোলেন। বিরতির আগেই আরও একটি টেকডাউন এনে স্কোর ৪-১ করেন তিনি। দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেও আমনের দাপট বজায় ছিল। আরও একটি টেকডাউনে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৬-১। তখন মনে হচ্ছিল, ফাইনালটা হয়তো নিয়ন্ত্রণেই রেখে দেবেন তিনি। কিন্তু কুস্তি বলে নয়, যে কোনও খেলাতেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।
এর পরেই নাটকীয় মোড়। চোট নিয়েও হান চং সং লড়াইয়ে ফিরে আসেন। টেকডাউন এবং রোল থেকে দ্রুত ৬ পয়েন্ট তুলে নেন উত্তর কোরিয়ার কুস্তিগির। চোখের পলকে ১-৬ থেকে স্কোর হয়ে যায় ৭-৬। এ বার এগিয়ে প্রতিপক্ষ। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেন হঠাৎ করেই কোনও এক জাদুবলে আমনের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু চাপের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখেন তিনি। ফের আক্রমণে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪ পয়েন্ট তুলে নেন আমন। টেকডাউন থেকে দু’পয়েন্ট এবং রোল থেকে আরও দু’পয়েন্ট। তাতেই স্কোর ১০-৭। এরপর হানের একটি চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হওয়ায় আরও একটি পয়েন্ট পান আমন। শেষ পর্যন্ত ১১-৭ স্কোরে ম্যাচ জিতে সোনার পদক নিশ্চিত করেন তিনি।
এই সোনা আমনের এশিয়ান গেমসের কেরিয়ারে বিশেষ তাৎপর্যের। ২০২২ হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে তিনি ৫৭ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এ বার সেই পদককে সোনায় বদলে দিলেন ২৩ বছরের ভারতীয় কুস্তিগির। তাঁর এশিয়াড অভিযানও শুরু হয়েছিল দাপটের সঙ্গে। রাউন্ড অফ ১৬-তে জাপানের ইয়ামাতো ওগাওয়াকে ২০-০ ব্যবধানে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে কাজাখস্তানের নুরদানাত আইতানোভকে ১২-১ হারান তিনি। সেমিফাইনালে কিরগিজস্তানের আইয়াল বেলোলিউবস্কির বিরুদ্ধে এক সময় ২-৬ পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় পর্বে ১২ পয়েন্ট তুলে ১৪-৮ জয় ছিনিয়ে নেন। আর ফাইনালে ৬-৭ থেকে ১১-৭—পর পর দুই ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের সেই গল্পই শেষ পর্যন্ত এনে দিল এশিয়ান গেমসের সোনা।
