নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ত্রিপুরার এক আদিবাসী যুবককে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে হেনস্তার অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কে জড়ান কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিন। ঘটনাটি সামনে আসার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অনেকে। অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শাকিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আমির শাকিনকে ওই যুবকের উদ্দেশে ‘চিঙ্কি’, ‘চায়না প্রেসিডেন্ট’ এবং ‘মাইকেল জ্যাকসন’-এর মতো অবমাননাকর মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে বলে অভিযোগ। আদিবাসী যুবককে তাঁর চেহারা ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগে শোরগোল শুরু হয়েছে। ঘটনাটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্য পুলিশের ডিজিকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজ পরিবারের উত্তরসূরি প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করে বলেন, 'এটা আমাদের প্রতি চূড়ান্ত অপমান। এ ধরনের মন্তব্য শুধু ত্রিপুরার মানুষেরই নয়, রাজ্যের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অপমান।' অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ করার পাশাপাশি বিভিন্ন যুব সংগঠনকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ত্রিপুরা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট যুবক, ত্রিপুরার মানুষ, তিপ্রাসা আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে অভিযুক্তকে।
ভিডিওটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর শাকিন সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা চান। ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে তিনি বলেন, ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং ভিডিওতে থাকা যুবক তাঁর পরিচিত। ওই যুবক আগে আমেদাবাদে তাঁর এক বন্ধুর ক্যাফেতে কাজ করতেন বলেও দাবি করেন তিনি। শাকিনের বক্তব্য, দু’জনের মধ্যে কথোপকথনটি ছিল মজার ছলে তৈরি একটি ভিডিও এবং কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।




