পঞ্জাব: দিনেদুপুরে গুলিতে প্রাণ হারালেন পঞ্জাবের জনপ্রিয় মেকআপ আর্টিস্ট। বাইকে করে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। জানা গিয়েছে, মৃতের নাম ম্যাড সান্ধু। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ লোহারকা রোডের একটি এলাকায় গাড়ি ধোওয়ার জন্য দিয়েছিলেন ম্যাড সান্ধু। সেই সময় বাইকে করে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সান্ধুকে। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে দুটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে একাধিক দল কাজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ বা হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ ছিলেন ম্যাডি সান্ধু। তাঁর মেকআপ টিউটোরিয়াল ও রিলস প্রতিনিয়ত মন জয় করত হাজার হাজার অনুরাগীর। সান্ধু পঞ্জাব এবং মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রে স্টাইলিস্ট এবং সহকারী কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে ফ্যাশন শিল্পে তার পেশাগত জীবন শুরু করেন। বিলাসবহুল লুকের টিপস, লাইফস্টাইল কনটেন্ট এবং সামাজিক রীতিনীতি, পপ সংস্কৃতি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য শেয়ার করে তিনি ইনস্টাগ্রাম রিল এবং ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 'ওই ভোলে ওই' সিরিজের মতো কিছু পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছেন।
ম্যাড সান্ধুর আসল নাম মধুসূদন। মেকআপ, ফ্যাশন ও জীবনযাপন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করতেন তিনি। বিভিন্ন পডকাস্টেও তাঁকে দেখা যেত। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া কর্মকাণ্ড ঘিরে অতীতে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। কয়েক মাস আগে তাঁর কিছু ভিডিও ও পোশাক নিয়ে এক নিহং ধর্মীয় নেতার সঙ্গে তাঁর বিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে সেই পুরনো বিতর্কের সঙ্গে শনিবারের হামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। হত্যার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
