প্রবীণ তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। তাঁর লেটারহেড প্যাডে হাতের লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে, সেই নোটের সত্যতা নিয়ে কোন সংশয় রাখা হচ্ছে না, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টিকে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনা হবে আশিসের মোবাইল ফোনও।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উদ্ধার হওয়া নোটটি কিভাবে লেখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরী। তাই পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে তাঁর হাতের লেখা। লেখাটা আদেও আশিসের নিজের লেখা কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষাতেই স্পষ্ট ভাবে জানা যাবে। এর পাশাপাশি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে আশিসের মোবাইল ফোন। মৃত্যুর আগে তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন,তাঁর কাছে কার ফোন এসেছিল, কোনও অস্বাভাবিক যোগাযোগ হয়েছে কিনা, সবই খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কল রেকর্ডও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে, এখানেই শেষ নয়। আশিসের মৃত্যু নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, ‘হতেই পারে, কেউ হয়তো নাম বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের যে অংশটা রয়েছে, তার সঙ্গে ওঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ভোটে হেরে যাওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কমিটি করেছিলেন, তা থেকে উনি পদত্যাগ করেছিলেন।
উনি মমতাপন্থী তৃণমূল থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথাও জানিয়েছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই কেউ ব্ল্যাকমেল করে থাকতে পারে।’ যদিও এই আশঙ্কার সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেছিলেন আশিস। তাঁর দাবি, ‘আমিও বলেছিলাম, সচিবালয়ে আপনি আসতে পারেন। প্রাক্তন বিধায়ক, বিধানসভায় তো আসতেই পারেন।’
তবে, এই মুহূর্তে এগুলি অভিযোগ বা আশঙ্কার পর্যায়েই রয়েছে। কোনও ব্যক্তি আশিসকে হুমকি দিয়েছে কি না, কিংবা মৃত্যুর সঙ্গে এমন কোনও ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তেই পরিষ্কার হবে। একটি হাতে লেখা নোট, সঙ্গে মোবাইল ফোন আর একাধিক প্রশ্ন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কি ঘটেছিল, এখন তদন্ত সেই পথেই।