উত্তর ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: বাড়ির মেঝেতে উদ্ধার তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ। ঘরেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর বাবাকে। শনিবার সকালে বাড়ি থেকেই দু’জনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাবা-ছেলের জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন তৃণমূল নেতার নাম সঞ্জয় রাউত। নিহত তৃণমূল নেতার বাবার নাম কমল রাউত। খুন নাকি অন্যকিছু? তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী সঞ্জয় রাউত এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ও প্রাক্তন যুব সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সঞ্জয় আমদানি-রফতানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সঞ্জয় অবিবাহিত ছিলেন। বাবা-মাকে নিয়ে থাকতেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বাড়ির বারান্দায় সঞ্জয়ের দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। একই সময়ে বাড়ির ভিতরে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন তাঁর বাবা কমল রাউত। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অশোকনগর থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে মানসিক অবসাদে ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। সঞ্জয় রাউতের মা মারা গিয়েছেন বছর চারেক আগে। বাবার সঙ্গেই থাকতেন তিনি। বৃদ্ধের হার্টে স্টেন বসানো হয়েছিল। অনেকদিন ধরেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর সঞ্জয় নিজে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাবা ও ছেলের মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে অশোকনগর থানার পুলিশ।তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
গত ১৬ অগাস্ট প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। বীরভূমের রামপুরহাটে বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিস থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ওই কার্যালয় থেকে হাতে লেখা এক পাতার একটি ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন আশিস। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের চেয়ারম্যানের পদও ছেড়ে দেন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই সরিয়ে নেন নিজেকে। তারপরেই তাঁর অস্বাবিক মৃত্যুতে শোরগোল শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে।
