অসমের বন্যা পরিস্থিতির দিন দিন আরও অবনতি ঘটছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জনের প্রাণহানির খবর মেলায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১-তে। অসম স্টেট ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি (ASDMA)-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের ১২টি জেলার সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বিপন্ন শিবসাগর জেলা, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ জলবন্দি। এ ছাড়া চরাইদেও এবং জোরহাটে যথাক্রমে ১.৮৮ লাখ ও ১.২৬ লাখের বেশি অধিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে ৩৭টি রেভিনিউ সার্কেলের ৮৫৬টি গ্রাম পুরোপুরি বানের জলে ভেসে গেছে।
বন্যায় কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে; প্রায় ৫৬,৬০৬ হেক্টর কৃষিজমি এখন জলের নিচে। পশুপালকরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত এক দিনে ১৭,০০০-এর বেশি গবাদি পশু ও পোলট্রি ভেসে গেছে এবং এখনও সাড়ে তিন লাখেরও বেশি প্রাণীকে বাঁচানোর সংগ্রাম চলছে।বিপদগ্রস্তদের সহায়তায় রাজ্যজুড়ে ৩৬৩টি ত্রাণ শিবির ও বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ৩.১৫ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে তাঁদের খাদ্য, পানীয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। NDRF, SDRF ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে শিবসাগরে এখনও ১ জন নিখোঁজ।
ডেরগাঁওয়ের একটি ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ বলে আখ্যা দেন এবং জানান মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁর মতে, পার্শ্ববর্তী রাজ্য নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টির (ক্লাউডবার্স্ট) কারণেই এই আকস্মিক জলোচ্ছ্বাস। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্রসহ একাধিক প্রধান নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে জলস্তর বাড়ার আশঙ্কায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাচ্ছে।