বাঁকুড়া, নিউজ ডেস্ক: কাজের জায়গায় তখন ব্যস্ততা। নির্মীয়মাণ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিজেদের মত কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। আচমকাই তাঁদের চোখ আটকে যায় প্রাচীরের দিকে। সামনে যা দেখা গেল, তাতে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যান তাঁরা। খবর ছড়িয়ে পড়তে ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করে। এক ব্যক্তির এমন পরিণতি কিভাবে হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
বাঁকুড়ার সোনামুখী পৌরশহরের আদব বাজার এলাকার ঘটনা। সূত্রে খবর, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের নির্মাণস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে উত্তম চক্রবর্তী নামে এক প্রোমোটারের ঝুলন্ত দেহ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ চলছে। সেই নির্মাণ কার্যের কন্ট্রাক্টের দায়িত্বে ছিলেন উত্তম চক্রবর্তীর। কাজ করতে এসে শ্রমিকরা প্রথমে তাঁকে দেখতে পান বলে জানা গিয়েছে। নির্মীয়মাণ ডাম্পিং গ্রাউন্ডের প্রাচীরের একটি রডের সঙ্গে ঝুলছিল তাঁর দেহ। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত খবর দেওয়া হয় সোনামুখী থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। পরে, ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে, ঘটনাটি নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মৃত্যুর কারণ নিয়ে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও ঘটনা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ আপাতত সমস্ত ঘটনায় খতিয়ে দেখছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মৃতের গতিবিধি এবং মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারোর যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তম চক্রবর্তীর পরিবারের তরফে মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ তাঁর ভাইপো সৌমেন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, তাঁর কাকা কেন আত্মহত্যা করবে, তার কোনও কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। শুধুমাত্র তাই নয়, মৃতের শরীর ও মুখে কাদা লেগে থাকার বিষয়টিও পরিবারের সন্দেহ বাড়িয়েছে বলে দাবি তাঁর। পরিবারের অনুমান উত্তম চক্রবর্তীকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।
যদিও এই অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। তবে, জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত পরিবারের তরফে সোনামুখী থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ফলে, রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের নির্মীয়মান প্রাচীরের রডে কেন ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন উত্তম চক্রবর্তী, কিভাবে সেখানে পৌছলেন তিনি এবং তাঁর শরীরে কাদা এল কিভাবে, এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ। আপাতত প্রোমোটারের রহস্য মৃত্যুকে ঘিরে উত্তরহীন একাধিক প্রশ্ন। এখন, তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা|
