বাসন্তী, নিউজ ডেস্ক: মাঠের মাঝখানে রয়েছে মাছের পুকুর। তারই পাশে নিরিবিলি একটি ঘর। সাধারণত মাছ চাষের জন্য ব্যবহৃত হয় ওই ঘরটি। কিন্তু, হঠাৎ সেই ঘরকে ঘিরে শুরু হয় সন্দেহ। স্থানীয়দের নজরে আসে ঘরের ভিতর থাকা কিছু অস্বাভাবিক বস্তু। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় এবং সামনে আসে নানা প্রশ্ন। আতঙ্কের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার অন্তর্গত কাঠালবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খেড়িয়া বিহারী মোড় এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাছ চাষের পুকুরের পাশে থাকা একটি ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি তাজা বোমা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঠের মাঝখানে একটি মাছের পুকুর রয়েছে। পুকুরের পাশেই মাছ চাষের ব্যবহারের জন্য একটি ঘর রয়েছে। সেখানেই পড়ে থাকতে দেখা যায় চারটি বোমা। প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেয়ে তাঁরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাসন্তী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
এরপর ঘরটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় চারটি তাজা বোমা। পুলিশ সেগুলি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। তবে, কিভাবে ওই ঘরের ভিতরে বোমা গুলি এল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে খবর, যে ঘর থেকে বিস্ফোরক গুলি উদ্ধার হয়েছে সেটি খেড়িয়া পোলের বাসিন্দা খোকন লস্করের। তাঁর বাবার নাম সাইফুদ্দিন লস্কর। ওই মাঠের মাছের পুকুরটি লিজ নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করেন খোকন। মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘরের ভিতর থেকে কি করে চারটি তাজা বোমা এল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, নির্জন মাঠের সুযোগ নিয়ে কেউ হয়তো সেখানে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিল। অন্য কোনও জায়গা থেকে বোমা গুলি এনে সেই ঘরে রাখা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, এই বিষয়ে এখনও পুলিশের তরফে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। পাশাপাশি, তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বোমাগুলির উৎস এবং সেগুলি সেখানে রাখার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে, এলাকায় আরও কোনও বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন তদন্তকারীরা।
