নিউজ ডেস্ক: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সঞ্চালিত ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে ফের এল আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্ত। আইরিশ বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী অ্যালেক্সান্ড্রা টেলরের বিদায়ের ঠিক একদিন পরই, রবিবার বিগ বস বাংলার ঘর থেকে বিদায় নিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তী। তাঁর বিদায়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে বিদায়ের মুহূর্তে প্রতিযোগিতার চেয়ে সম্পর্ককেই বেশি গুরুত্ব দিতে দেখা গেল সায়ককে।
এলিমিনেশনের আগে সায়ক, নিরঞ্জন মণ্ডল এবং মনামী ঘোষ—তিনজনই ছিলেন বিপদের মুখে। শেষ পর্যন্ত দর্শকদের ভোট ও অনুষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ঘর ছাড়তে হয় সায়ককেই। বিগ বসের ঘরে তাঁর যাত্রাপথে যেমন নানা মুহূর্ত তৈরি হয়েছে, তেমনই প্রতিযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তাঁকে একাধিকবার আলোচনায় আসতে দেখা গিয়েছে।
ঘর ছাড়ার আগে সহ-প্রতিযোগীদের উদ্দেশে নিজের বিদায়ী বার্তা লেখেন সায়ক। সেখানে প্রতিযোগিতার খেলায় নিজের অবস্থান এবং সম্পর্ক নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা উঠে আসে। সায়ক লেখেন, “প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই খেলায় শুরু থেকেই আমি পিছিয়ে পড়েছিলাম। আমার কাছে সম্পর্ক ভাঙার চেয়ে গড়ে তোলাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর আমার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার সময় আমি এই ঘর থেকে কিছু সত্যিই অসাধারণ সম্পর্ক সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। সবাই ভালো থেকো এবং ভালোভাবে খেলাটা খেলো। আমার তৈরি রুটিগুলোর কথা মনে রেখো।”
সায়কের এই আবেগঘন বার্তা শুনে কার্যত ভারী হয়ে ওঠে বিগ বস বাংলার ঘরের পরিবেশ। বেশ কয়েকজন সহ-প্রতিযোগী তাঁকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। সোনামণি সাহা এবং সৃজলা গুহকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে তনুশ্রীও সায়ককে নিয়ে নিজের ধারণার পরিবর্তনের কথা জানান। চোখের জল মুছে তিনি বলেন, তাঁর ভিডিও দেখে সায়ক সম্পর্কে তাঁর অন্যরকম ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিগ বসের ঘরে তাঁকে কাছ থেকে দেখার পর মানুষ হিসেবে সায়ককে তাঁর “সত্যিই খুব ভালো” বলে মনে হয়েছে।
ভারত কলও সায়কের ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলেন। তাঁর কথায়, সায়ক সবার সঙ্গে ঝগড়া করতে পারতেন না, আবার সবসময় লাইমলাইটও নিজের দিকে টানতে পারতেন না। তবে মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত ভালো—এমনটাই জানান ভারত।
বিগ বস বাংলায় প্রবেশের আগেও সায়ক চক্রবর্তী বিভিন্ন কারণে আলোচনায় ছিলেন। কয়েক মাস আগে গোমাংস পরিবেশন সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, কলকাতার একটি নামী রেস্তোরাঁ তাঁকে না জানিয়েই তাঁর খাবারে গোমাংস পরিবেশন করেছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একাধিকবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন সায়ক। তাঁর বন্ধু দেবলীনা নন্দীর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত ঘটনাও সেই তালিকায় রয়েছে। ফলে বিগ বসের ঘরে প্রবেশের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল যথেষ্ট।
তবে শেষ পর্যন্ত বিগ বস বাংলার ঘরে সায়কের যাত্রা থেমে গেল। বিদায়ের সময় তাঁর কথায় প্রতিযোগিতার ফলাফলের পাশাপাশি বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের গুরুত্বই বেশি করে ফুটে উঠেছে। সহ-প্রতিযোগীদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়াও বুঝিয়ে দিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরের কিছু মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
‘বিগ বস বাংলা’ প্রতিদিন রাত ৯টা ৩০ মিনিটে স্টার জলসায় সম্প্রচারিত হয়। পাশাপাশি জিওহটস্টারেও দেখা যাচ্ছে এই রিয়েলিটি শো।