নিউজ ডেস্ক: অবাক কাণ্ড! দু’জনের বসার একটি স্কুটিকে নিমেষে তৈরি হল ছ’জনের বসার জায়গা। স্কুটে উপরে কাঠের বেঞ্চ জুড়েই ছ’জনের যানবাহনে পরিণত করেছেন কয়েকজন যুবক। সেই ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে হাসি-মশকরা।
ভাইরাল হওয়া দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, একটি স্কুটিতে একসঙ্গে ছ’জন যুবক যাতায়াত করছেন। স্কুটির সামনের অংশ থেকে পিছনের আসন—সব জায়গাতেই কোনও না কোনও ভাবে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। সাধারণত একটি স্কুটিতে চালক-সহ দু’জন যাতায়াত করতে পারেন। সেখানে একসঙ্গে ছ’জনকে নিয়ে রাস্তায় চলার দৃশ্যই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। অনেকেই মজার ছলে বলছেন, স্কুটি নির্মাতা সংস্থার ইঞ্জিনিয়াররা হয়তো এমন ব্যবহার কখনও কল্পনাই করেননি। কারও মন্তব্য, স্কুটির আসন বাড়ানোর বদলে ‘জুগাড়’ করেই সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন ওই যুবকেরা। আবার কেউ কেউ এই ঘটনাকে বিহারের পরিচিত ‘জুগাড় টেকনোলজি’-র আরও একটি উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন।
দেখুন: https://x.com/afjalrajguru/status/2100995246528348475?s=20
তবে বিষয়টি নিয়ে মজা হলেও এর মধ্যে রয়েছে বড়সড় নিরাপত্তার প্রশ্ন। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী নিয়ে স্কুটিতে চলাচল করলে ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চালকের নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা হতে পারে। ফলে এমন কাণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির খোরাক হলেও রাস্তায় তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নেটপাড়ায় ভাইরাল হওয়া এই দৃশ্য ফের প্রমাণ করল, নতুন কিছু করার ক্ষেত্রে মানুষের কল্পনার কোনও সীমা নেই। তবে ‘দেশি জুগাড়’ যতই মজার হোক, রাস্তায় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করলে তার পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে।
এছাড়ও, হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক বা স্কুটার চালানো ট্রাফিক আইন অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। মোটরযান আইন অনুযায়ী, চালক এবং আরোহী উভয়ের জন্যই হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। হেলমেট না পরলে বড় অঙ্কের জরিমানা, এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত এবং প্রাণহানি এড়াতে হেলমেটের ভূমিকা অপরিসীম। এমনকি অনেক জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ বা ফেসবুক পেজ থাকে, যেখানে ছবি বা লোকেশনসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার প্রচার ও জরিমানা করা হলেও অনেক আরোহী আইন অমান্য করেন। তাই নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অবশ্যই মাথায় হেলমেট রাখুন।