নয়াদিল্লি: তিরুপতি মন্দিরের বিখ্যাত লাড্ডু প্রসাদ তৈরিতে ব্যবহৃত ঘি নিয়ে বিতর্ক এবার আরও বড় মোড় নিল। ভেজাল ঘি সরবরাহের অভিযোগে ‘সুকৃতি ফুডস’-এর প্রোমোটার কৈলাস চাঁদ মাংলাকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গরুর খাঁটি ঘি হিসেবে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমকে (TTD) যে ঘি সরবরাহ করা হয়েছিল, তার মধ্যে রিফাইন্ড পাম অয়েল, পাম কার্নেল অয়েল, পামোলিন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
ED জানিয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদ জোনাল অফিস থেকে কৈলাস চাঁদ মাংলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে বিশাখাপত্তনমের বিশেষ PMLA আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলায় তদন্ত চলছে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ED-এর অভিযোগ, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে TTD-কে সরবরাহ করা ঘির মোট মূল্য ছিল প্রায় ২৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ভেজাল ঘি কৈলাস চাঁদ মাংলার কারখানায় তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
কী দিয়ে তৈরি হচ্ছিল ‘ঘি’?
ED-এর দাবি অনুযায়ী, কথিত ভেজাল ঘি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল রিফাইন্ড পাম অয়েল, পাম কার্নেল অয়েল এবং পামোলিন। এর পাশাপাশি MG-90, মনোগ্লিসারাইড, Myvacet Soft 400 এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টারের মতো রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এরপর সেই পণ্যকে ‘Agmark Special Grade Cow Ghee’ হিসেবে TTD-র কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
শুধু ভেজাল উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ নয়, সরবরাহের প্রকৃত চরিত্র আড়াল করতে নথিপত্রে কারচুপির অভিযোগও তুলেছে ED। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘি ও রিফাইন্ড পাম অয়েলের কেনাবেচা সংক্রান্ত ভুয়ো রেকর্ড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটিকে বৈধ সরবরাহ হিসেবে দেখানো যায়।
তদন্তে আরও কারা?
এই মামলায় কৈলাস চাঁদ মাংলাকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে ED। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ভেজাল উপাদান সংগ্রহ এবং নিজের কারখানায় কথিত ভেজাল ঘি তৈরির ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সেই পণ্য TTD-তে সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয় বলে অভিযোগ।
এর আগে একই মামলায় ‘ভোলে বাবা অর্গানিক ডেইরি মিল্ক’-এর প্রোমোটার ও ডিরেক্টর বিপিন জৈনকেও ED গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে তিরুপতির লাড্ডুতে ব্যবহৃত ঘি নিয়ে তদন্ত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল তিরুপতির প্রসাদে ব্যবহৃত ঘির মান নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এখন ED-এর তদন্তে আর্থিক লেনদেন, ভেজাল উপাদান সংগ্রহ এবং সরবরাহের গোটা চক্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।