বিজেপিও। জেপিএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলনে বসেছেন ছাত্রছাত্রীরা। রবিবার সকালে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ এবং ঝাড়খণ্ড বিজেপির সভাপতি আদিত্য সাহু। সেখান থেকেই রাজ্য সরকার এবং কংগ্রেসের দিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ এনেছেন তাঁরা।
১৪ তম জেপিএসসি বাতিলের দাবিতে রাঁচির স্টেডিয়ামে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলেছে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন। পাশাপাশি আমরণ অনশনেও বসেছেন বেশ কয়েকজন। এই পরিস্থিতিতে এ দিন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবি ও সমস্যার কথা শোনেন দুই বিজেপি নেতা। এর পরই পড়ুয়াদের সঙ্গে রাজনীতি করার অভিযোগ এনে হেমন্ত সোরেনের সরকার এবং কংগ্রেসকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "১৬ দিন ধরে আন্দোলন চলছে।ঝাড়খণ্ড সরকার আসলে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে চাইছে। যদি তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র নৈতিকতা থাকত, তা হলে প্রথমদিনই মুখ্যমন্ত্রী এখানে আসতেন আর ছাত্রছাত্রীদের সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নিতেন। সিবিআই তদন্তে আপত্তি কোথায়?" একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “তাঁর মধ্যে যদি সামান্যও নৈতিকতা থাকে, তা হলে রাঁচিতে এসে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করুন। কিন্তু তিনি তা করবেন না।" রাহুলের বিরুদ্ধে কার্যত দ্বিচারিতার অভিযোগ এনেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।
অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড বিজেপির সভাপতি আদিত্য সাহুর দাবি, “শিক্ষার্থীদের চোখ দিয়ে জল পড়ছে। এই কান্না শুধু ওদের নয়, এটা ঝাড়খণ্ডের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কান্না। এই চোখের জলের মূল্য হেমন্ত সোরেন সরকারকে চোকাতে হবে। এই কান্নার মূল্য ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চাকেও দিতে হবে।” একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীকে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসার আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “রাহুল গান্ধীর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা উচিত। আর যদি তাঁর সাহস থাকে, তা হলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে পড়ুয়াদের সমর্থনে ধর্নায় বসুন। স্পষ্ট করে বলুন, হয় ঝাড়খণ্ড সরকার সিবিআই তদন্ত করাবে, নয়তো তিনি এই সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করবেন।”
এ দিকে রাঁচির ছাত্র আন্দোলনে বিজেপির যোগদানের এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই জন্ম দিয়েছে নয়া জল্পনার। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পরীক্ষার নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। সেই সঙ্গে রাহুল গান্ধী তথা কংগ্রেসের দিকে তাঁদের পাল্টা চ্যালেঞ্জে নয়া মোড় নিয়েছে এই আন্দোলন। সম্প্রতি যন্তর মন্তরের জেন-জি আন্দোলনের পর জল এখন সম্পূর্ণ উল্টো খাতে বইছে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা।