আদালতে স্বস্তি তৃণমূলের যুবরাজের। আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। আপাতত তার বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না পুলিশ এমনটাই জানা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর নানান অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার তারই জন্য রক্ষাকবচ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য হয়েছে ২৫ অগস্ট। আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং অয়ন ভট্টাচার্য। আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর হয়ে সাওয়াল করেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবারের এই শুনানিতে বিচারপতি রাজ্যের কাছে জানতে চান বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দাখিল হয়েছিল কিনা? উপযুক্ত তথ্য আদালতে পেশ করার কথা বলেন তিনি। বিচারপতির এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আদালতে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটের রেজাল্ট ঘোষণার আগে কোনোরকম এফআইআর হয়নি।
এরপরই বিচারপতির বক্তব্য, এই মুহূর্তেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন মোতাবেক মামলা খারিজ করা হচ্ছে না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন তিনি। তাই এই মুহূর্তেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় পুলিশের তদন্ত অনুসারে আদালতের রিপোর্ট জমা পড়বে। পাশাপাশি বিচারপতি আরো বলেন, আগে যে অন্তবর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। এখনো তা বহাল থাকছে।
অপরদিকে রাজ্যের তরফে সওয়াল করা হয়, অবিলম্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ করা উচিত। এমনকি অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচকও দেওয়া উচিত নয়। এতে বিচারপ্রতি স্পষ্ট বক্তব্য, তদন্ত করে দেখা হোক। যদি কোনো অপরাধ করা হয়ে থাকে তার বিচার হবে। আদালতের নির্দেশে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় তাহলে সমস্যা কোথায়? পাশাপাশি বিচারপতি আরো বলেন, এই অভিযোগ কে করেছে তাও বিবেচনা করে দেখতে হবে। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগের সময়কাল নিয়েও বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে অভিযোগকারীর আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনের পূর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান ছিল তা খুবই প্রভাবশালী ছিল। তাই সেই মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব ছিল না। যদিও বর্তমানেও তিনি যথেষ্ট প্রভাবশালী। এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাদের ওপরে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রভাবশালী হয়ে থাকেন তাহলে তার আমতলার দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা হলো কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র পাল্টা বলেন, যে ভবনটি ভাঙা হয়েছিল সেটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পত্তি ছিল না আদালতকে ইতিপূর্বে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। এরপরই বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন নির্বাচনের পূর্বে এই কাজ করতে পারতেন?
দুই পক্ষের সওয়াল-জওয়াবে রীতিমতো সরগরম হয়েছিল গোটা আদালত চত্বর। আগামী দিনে এই তদন্তের মোড় কোন দিকে যায় সেটাই দেখার। তবে আপাতত কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন যুবরাজ।