আইনি বিয়ের বৈধতা শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে তোলা ছবি নয়। উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই বিয়ের বৈধতা প্রমাণিত হবে। এমনই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আর তাতেই চাকরি বহাল থাকল এক আরপিএফের।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ওই আরপিএফ কর্মীর প্রথম পক্ষের স্ত্রী রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন, আইনি বিচ্ছেদ না করেই তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রেল প্রথমে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩০-এ এপ্রিল ওই আরপিএফ কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পরে। এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাতেই একেবারে মাথায় হাত পড়ে যায় ওই আরপিএফ কর্মীর।
এরপরেই রেলের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় ওই আরপিএফ কর্মী। তিনি দাবি করেছিলেন, শুধুমাত্র একটি অভিযোগ বা রেজিস্টারের জেরক্স কপি দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ করা সম্ভব নয়। কারণ ওই নথি অনুসারে বর কনে বা সাক্ষীদের কোনো স্বাক্ষর ওই কাগজে ছিল না।
এরপরই রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগকারীর স্ত্রী নিজে বিয়ের অভিযোগকে সমর্থন করেছেন। এছাড়াও মৌনীবাবা মঠ-এর রেজিস্টারে বিয়ের নথি ও একটি ছবিও জমা দেওয়া হয় তাদের কাছে। তারই ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
তবে আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু একটি বিয়ের ছবি কোনো ব্যক্তির দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে বলে প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, 'বিয়ে বৈধ বলে প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাক্ষীর উপস্থিতি এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।' তা না হলে সেই বিয়েকে বৈধ মান্যতা দেওয়া যায় না।
ইতিপূর্বে ২০২৪ সালে একক বেঞ্চ ওই আরপিএফ-এর রেলের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত খারিজ করেছিল। এবার বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চও সেই রায় বহাল রেখে রেলের অ্যাপিল খারিজ করে দেয় এবং আরপিএফ জওয়ানকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন ওই আরপিএফ জওয়ান।
আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা স্পষ্ট হলেও সকলের কাছে। শুধুমাত্র অসম্পূর্ণ নথি বা ছবির ভিত্তিতেই কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। আইনি তথ্য ছাড়া কোনো অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।