স্পোর্টস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক রাতেই অঘটন, প্রত্যাবর্তন আর রেকর্ডের মেলা! তুরস্কের মাটিতে ফেনেরবাচের কাছে ২-৩ গোলে হেরে গেল লিভারপুল। অন্য দিকে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে ফ্রান্সের লঁসকে তাদের ঘরের মাঠে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দিল কোমো। পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের গোলে জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। স্লাভিয়া প্রাগকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট ঘরে তুলল আর্সেনালও। ফলে ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার লিগ পর্বে জমে উঠল লড়াই।
এ মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত ছিল লিভারপুল। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, লাস্ক ও ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী হয়েই ইস্তানবুলে খেলতে নেমেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেনেরবাচের কাছে হার মানতে হল লিভারপুলকে। ম্যাচের ১৯ বছর বয়সি ট্রে নিয়োনি প্রথম সিনিয়র গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে ম্যাসন গ্রিনউডের ফ্রিকিকে বলের দিক পরিবর্তন হয়ে সমতা ফেরায় ফেনেরবাচ। বিরতির পর ৬৯ মিনিটে আলেকজান্ডার ইসাকের হেডে ফের এগিয়ে যায় লিভারপুল। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্রুত আর্চি ব্রাউনের গোলে সমতা ফেরায় ঘরের দল। এরপর ভেদাত মুরিকি জয়সূচক গোল করে ফেনেরবাচকে ৩-২ ব্যবধানে জিতিয়ে দেন।
তবে রাতের সবচেয়ে বড় চমক কোমোর জয়। লঁসের মাঠে ৯-১ গোলে জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল সেস ফাব্রেগাসের দল। আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চালু হওয়ার পর এই প্রথম নয়, অষ্টম গোলের ব্যবধানে জেতা তৃতীয় দল কোমো। এর আগে ২০০৭ সালে বেসিকতাসকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল লিভারপুল। ২০১৫ সালে মালমোর বিরুদ্ধেও একই ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল। পাশাপাশি এক ম্যাচে ৯ গোল করা দ্বিতীয় দল কোমো। ২০২৪ সালে দিনামো জাগরেবকে ৯-২ গোলে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ।
লঁসের বিরুদ্ধে কোমোর হয়ে গ্রিক স্ট্রাইকার আনাস্তাসিওস দুভিকাস হ্যাটট্রিক করেন। তিনি প্রথম দুটি গোল করার পর নিকো পাজ ব্যবধান বাড়ান। দ্বিতীয়ার্ধে লুকাস দা কুনহা ও মার্ক অলিভার কেম্ফ গোল করেন। এরপর নিজের তৃতীয় গোলটি করে দুভিকাস। মাত্তিয়া লিবেরালি সপ্তম গোলটি করেন। লঁসের হয়ে রুবেন আগিলার একটি গোল শোধ করলেও শেষ দিকে মার্টিন বাতুরিনা ও মাত্তেও পাপাচ্চিওলি আরও দু’টি গোল করে ব্যবধান বাড়ান। চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে কোমো।
এদিকে গ্রিসে এএইকে অ্যাথেন্সের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে জিতল রিয়াল। শুরুতে আবুবাকরি কোইতার গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। জুড বেলিংহ্যামের দুরন্ত ব্যাকহিলে সমতা ফেরে। পরে স্তাভরোস পিলিওস আবার এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপের গোলে ম্যাচে ফেরে রিয়াল। সংযুক্ত সময়ে ফেদেরিকো ভালভের্দের জয়সূচক গোলে জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন কোইতা।
অন্য দিকে ননি মাদুয়েকে ও ভিক্টর ইয়োকেরেসের প্রথমার্ধের গোলে স্লাভিয়া প্রাগকে তাদের মাঠে ২-১ গোলে হারায় আর্সেনাল। স্লাভিয়ার হয়ে ব্যবধান কমান উইক্টর নোভাক। আর এরবি লাইপজিগকে ৩-২ গোলে হারায় ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। কাস্তেলো লুকেবার আত্মঘাতী গোল ও এনজো ফের্নান্দেজের গোলে দু’বার এগিয়েও সমতা খোয়ায় সিটি। রিদলে বাকু ও আন্তোনিও নুসা গোল করে লাইপজিগকে ম্যাচে ফেরান। শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে পেপ গুয়ার্দিওলার দল। অর্থাৎ লিভারপুলের হারের রাতে ইউরোপে দাপট দেখাল বাকি ইংরেজ ক্লাবগুলি।




