নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের চাংলাং জেলায় ভারত-মায়ানমার সীমান্তে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হল অসম রাইফেলের এক জওয়ানের। মঙ্গলবার ভোরে টহল দেওয়ার সময় সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় আরও চার জওয়ান আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে চাংলাং জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ২১ অসম রাইফেলের একটি দল টহল দিচ্ছিল। ওই এলাকায় সীমান্তবেড়া তৈরির কাজও চলছিল। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ আচমকাই টহলদারি দলের উপর হামলা চালায় একদল সশস্ত্র জঙ্গি। আচমকা গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন বেশ কয়েকজন জওয়ান।
হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ বছর বয়সি হাবিলদার জাংখোকাই কুকি। আরও চার জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনার পরই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশও এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
চাংলাং জেলার পুলিশ সুপার কিরলি পাদু জানিয়েছেন, ভারত-মায়ানমার সীমান্তে জঙ্গি হামলার খবর তাঁরা পেয়েছেন। ঘটনার সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য চাংলাং থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে হামলার নেপথ্যে নাগা জঙ্গি সংগঠন NSCN-KYA (National Socialist Council of Nagaland-Khaplang-Yung Aung) থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হামলার সঠিক কারণ এবং জঙ্গিদের পরিচয় নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তথ্য সংগ্রহ করছে।
চাংলাং জেলা ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কারণে এই অঞ্চলে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ চলার সময়ই এই হামলার ঘটনা ঘটায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। জঙ্গিরা কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছল, হামলার আগে কোনও গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ছিল কি না এবং হামলার পর তারা কোন পথে পালিয়েছে—এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গিদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেতে স্থানীয় সূত্রের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
