নিউজ ডেস্ক: ChatGPT-তে প্রশ্ন করা, ইমেল লেখা কিংবা কোনও তথ্য জানতে চাওয়া এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির পিছনে রয়েছে এমন এক পরিবেশগত খরচ, যা অনেকেরই জানা নেই। AI পরিষেবা চালাতে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং শক্তির পাশাপাশি ডেটা সেন্টারে প্রয়োজন হয় জলও।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ChatGPT দিয়ে ১০০ শব্দের একটি ইমেল তৈরি করতে আনুমানিক ৫১৯ মিলিলিটার জল প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ হিসেবটি প্রায় একটি সাধারণ জলের বোতলের সমান। তবে এই সংখ্যাটি AI-এর প্রতিটি প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্ট বা সর্বজনীন পরিমাণ নয়। গবেষণার হিসেব করার পদ্ধতি এবং ডেটা সেন্টারের অবস্থানের উপর জল ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
AI-তে জল লাগে কেন?
এর মূল কারণ ডেটা সেন্টার। AI মডেল চালানোর জন্য হাজার হাজার শক্তিশালী GPU ও অন্যান্য সার্ভার একসঙ্গে কাজ করে। ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। সেই যন্ত্রপাতিকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের কুলিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যার কিছু ক্ষেত্রে জল ব্যবহৃত হয়।
শুধু ডেটা সেন্টারের কুলিং নয়, AI চালানোর জন্য যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও জল ব্যবহার হতে পারে। বিশেষ করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থার জন্য জলের প্রয়োজন হয়। ফলে AI-এর জল-ফুটপ্রিন্ট হিসাব করার সময় সরাসরি এবং পরোক্ষ দুই ধরনের জল ব্যবহারের হিসাব করা হতে পারে।
গবেষণায় কী বলা হয়েছে?
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইডের গবেষক পেংফেই লি এবং শাওলেই রেনের গবেষণায় AI-এর জল ব্যবহারের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। তাঁদের গবেষণায় AI ব্যবহারের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের জল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত জল ব্যবহারের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় আরও অনুমান করা হয়েছিল, AI-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকলে আগামী বছরগুলিতে এর জল ব্যবহারের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তবে এই হিসাব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। OpenAI-এর CEO স্যাম অল্টম্যান ২০২৫ সালে দাবি করেছিলেন, একটি গড় ChatGPT প্রশ্নে প্রায় ০.৩২ মিলিলিটার জল ব্যবহার হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন উৎসে পাওয়া হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
এর কারণ মূলত গণনার পদ্ধতি। কোনও হিসাব শুধু ডেটা সেন্টারের সরাসরি জল ব্যবহার ধরে, আবার কোনও গবেষণায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পরোক্ষ জলও যুক্ত করা হয়।
তাই ‘একটি প্রশ্ন মানেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জল’ এভাবে বিষয়টিকে দেখা ঠিক নয়। AI মডেলের আকার, উত্তর তৈরির পরিমাণ, ডেটা সেন্টারের অবস্থান, কুলিং প্রযুক্তি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস,সবকিছুর উপর জল ব্যবহারের পরিমাণ নির্ভর করতে পারে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, AI যত বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে, তার পরিকাঠামোর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আলোচনা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
