নিউজ ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে নানান কাজকর্মের ভিড়ে প্রতিনিয়ত কত না দৃশ্যের সাক্ষী থাকি আমরা। কথায় আছে খিদের জ্বালা বড় জ্বালা। দুমুঠো অন্নের জন্য অনায়াসেই নষ্ট হতে পারে এক শিশুর শৈশবও। এবার সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি দৃশ্য পথচলতি সাধারণ মানুষের মনকে তীব্রভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের সমাজের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার মাঝে চটের বস্তা পেতে বসিয়ে রাখা হয়েছে বছর দুয়েক-তিনের নিষ্পাপ দুটি ফুটফুটে শিশুকে। শরীরজুড়ে মাখানো সাদা ছাই বা ভস্ম, কপালে আঁকা চন্দনের তিলক তাদের সাজানো হয়েছে তপস্বী বা সন্ন্যাসীর বেশে। মাথার ওপর একটা ভাঙাচোরা কালো ছাতা আর পায়ের কাছে রাখা দুটো অ্যালুমিনিয়ামের বাটি। সেখানে পথচারীরা ফেলছেন খুচরো পয়সা। পাশ দিয়ে গেরুয়া বসন পরে হেঁটে যাচ্ছেন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। ছবিটি আপাতদৃষ্টিতে ভক্তিময় মনে হলেও এর অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে এক চরম নিষ্ঠুরতা।
খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে শিশু দুটি চরম ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত। তাদের চোখেমুখে শুধুই অসহায়তা। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে থাকতে একপর্যায়ে ঘুমের ঘোরে ঢুলে পড়ছে, চোখ বুজে আসছে ক্লান্তিতে। তবুও বসে থাকতে হচ্ছে, কারণ ধর্ম আর আবেগের মধ্যেই উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে তোলা হয়েছে এই শিশুগুলিকে।
যে বয়সে হাতে খেলনা কিংবা বই থাকার কথা, মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমোনোর কথা, সেই বয়সেই তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে পথচারীদের সহানুভূতি আদায় করে অর্থ তোলার হাতিয়ার হিসেবে।কারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের থেকে শিশুর প্রতি বেশি মায়া জন্মাবে পথচারীদের।
https://x.com/SanjuKu79832010/status/2104884826256064939
এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, শিশুদের দিয়ে এমন অর্থ উপার্জন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা নিজেদের পরিশ্রম ও ঘাম ঝরিয়ে পেট চালাতে পারে না, তারা কোন অধিকার নিয়ে নিজের সন্তানদের এভাবে রোদে বসিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির দিকে ঠেলে দেয়? এতে শিশুর শৈশব নষ্ট হচ্ছে।নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট দাবি তুলেছেন, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিভাবকদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তি দেওয়া উচিত।
শিশু সুরক্ষা কর্মীদের মতে, এটি সরাসরি শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতনের আওতাভুক্ত। যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক শিশু কল্যাণ প্রকল্প চালু রয়েছে, সেখানে শিশুদের ঢাল বানিয়ে ভিক্ষে করানোর এই প্রবণতা রুখতে প্রশাসন কবে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
