কলকাতা: চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ কলকাতা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন দর্শনার্থীরা। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির জেরে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৫ জন। মৃত ও আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস এবং আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরই হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৯ জন মৃতের মধ্যে ১৩ জনের পরিবারের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। মৃতদের মধ্যে দু’জন বিহারের বাসিন্দা বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
দুর্ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই পুজো কমিটির পাঁচ উদ্যোক্তাসহ মোট ১০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও তিনি কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে দায়িত্ব পালনে কোনও ব্যর্থতা ছিল, তাহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই দুর্ঘটনার পর শোকের আবহে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মায়ের পুজো বন্ধ করা যায় না, কিন্তু মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। পুজো কমিটিগুলিকে আরও সতর্ক হওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, থিমের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চোরবাগানের এই বিপর্যয় এখন একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা ছিল, নিরাপত্তার নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল তার উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল। মৃতদের পরিবারকে সাহায্য এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণার পর এখন নজর তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।




