কলকাতা: দুর্গাপুজোর আবহেই শহরে জারি হল কড়া নিষেধাজ্ঞা। চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। রবিবার, ১৮ অক্টোবর থেকে আগামী মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের জন্য কার্যকর থাকবে এই নির্দেশ। কলকাতা পুলিশের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন লাঠি, মারাত্মক অস্ত্র কিংবা অন্য কোনও বিপজ্জনক বস্তু বহন করা যাবে না। এমন কোনও কাজও করা যাবে না, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে অথবা শহরের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়।
উল্লেখ্য, চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শহরে। আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উৎসবের আনন্দের মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা জননিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে নতুন করে পরিস্থিতিকে জটিল না করে তোলে, সেই বিষয়েও সতর্ক প্রশাসন।
পুলিশের নির্দেশিকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নির্ধারিত হলেও পরবর্তী নির্দেশের উপরই নির্ভর করবে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না।
চোরবাগানের ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপ শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, আগামী কয়েক দিনে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে পুলিশ এবং উৎসবের বাকি দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।




