নিউজ ডেস্ক : উৎসবের আনন্দের মাঝে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের হাতে তাদের ভূমিকা নিয়েই যদি অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই ঘটনার জবাবদিহি করবে কে? কলকাতার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামনে আসা এমনই এক অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ঘটনার প্রকৃত কারণ, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি সবকিছু নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাকে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, সপ্তমী সন্ধ্যায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে এই দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আরও অনেকে আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এই ঘটনার পরই পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শতরূপ। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুজোর মতো জনসমাগমপূর্ণ সময়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করার পরিবর্তে পুলিশের একটি বড় অংশকে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাদবপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙ্গার অভিযোগ তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, পুজোতে ভিড় সামলানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে পুলিশকে সরিয়ে অন্য কাজে লাগানো সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন?
শতরূপের বক্তব্যে বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্ব পালনে এই ধরনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে জননিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। যদিও স্টল ভাঙ্গার অভিযোগ এবং দুর্ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্কের বিষয়গুলি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় প্রকৃত কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যা প্রকাশ্যে আনারও দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে বাকি পুজোর দিনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মীদের যথাযথ দায়িত্বে মোতায়েন করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তার উত্তর পাওয়া জরুরি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কি, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও গাফিলতি ছিল কি না এবং পুলিশের দায়িত্ব বন্টন কিভাবে করা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরী।
উৎসবের সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোনভাবেই অবহেলিত হতে পারে না। তাই শতরূপ ঘোষের তোলা প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে প্রশাসনিক জবাবদিহি। যদি দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি থেকে থাকে, তাহলে তার দায় কে নেবেন? আর পূজোর বাকি দিনগুলোতে যাতে আরও কোনও পরিবারকে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্য কি ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন?




