নয়াদিল্লি: ঠাকুমার মৃত্যুর শোকের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সমাজমাধ্যমে তাঁর এবং তাঁর ভাইপো ভিহান দীপকের শেয়ার করা ঠাকুমার দুটি আলাদা ছবি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছিলেন এক নেটাগরিক। দাবি করা হয়, ছবির পার্থক্য দেখে মনে হচ্ছে অভিজিতের দাদুর হয়তো দু’জন স্ত্রী ছিলেন। এমনকি তাঁকে মিথ্যা বলার অভিযোগও করা হয়। তবে সেই জল্পনায় সরাসরি জবাব দিয়েছেন CJP প্রধান। তাঁর দাবি, দুটি ছবিই তাঁর ঠাকুমার এবং সেগুলি তোলা হয়েছিল প্রায় ১০ বছরের ব্যবধানে।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে নিজেদের পৈতৃক বাড়িতে মৃত্যু হয় অভিজিতের ঠাকুমা সাবিত্রীবাই দীপকের। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। ঠাকুমার মৃত্যুর পর রবিবার ইনস্টাগ্রামে তাঁর একটি ছবি পোস্ট করে আবেগঘন বার্তা দেন অভিজিৎ। ছবির সঙ্গে লেখেন, ‘আমি দুঃখিত’। সেই পোস্টের পরেই দুটি ছবি ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক।
‘সারা জীবন একই মহিলার সঙ্গে সংসার করেছেন দাদু’
এক্সে ওঠা অভিযোগের জবাবে অভিজিৎ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ছবিগুলি ১০ বছরের ব্যবধানে তোলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দাদু সারা জীবন একই মহিলার সঙ্গে সুখে সংসার করেছেন এবং কখনও তাঁকে পরিত্যাগ করেননি। ফলে দাদুর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন তিনি।
ঠাকুমার মৃত্যুর পর এমন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দুটি ছবির পার্থক্য থেকেই দাদুর একাধিক বিয়ের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ তুলেছিলেন
এর আগে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে CJP-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টা আগে অভিজিৎ দীপকেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তিনি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, গ্রেফতারের কাগজে সই করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন জেলে রাখার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
সোমবার দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মানসিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ তোলেন অভিজিৎ। ঘটনার সম্পাদনাহীন ভিডিয়ো প্রকাশ করারও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
অন্যদিকে, রবিবার দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদব একটি ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সেখানে পুলিশকর্মীদের অভিজিৎকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুসংবাদ দিতে এবং শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য যাত্রার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তি পাওয়ার পর অভিজিৎ বিমানে নাগপুরে যান। সেখান থেকে সড়কপথে সান্তুক পিম্পরি গ্রামে পৌঁছে ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দেন এবং শেষ শ্রদ্ধা জানান।
সব মিলিয়ে, ঠাকুমার মৃত্যু ঘিরে আবেগঘন মুহূর্তের মধ্যেই ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে বিতর্ক এবং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে দুই ছবির ভিত্তিতে তাঁর দাদুর দ্বিতীয় বিয়ের যে দাবি তোলা হয়েছে, তা অভিজিৎ স্পষ্টভাবে খারিজ করেছেন।
