সোনম ওয়াংচুকের অনুরোধে আমরণ অনশন ভাঙলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত আরও তিন ছাত্র-আন্দোলনকারীও সোমবার উপবাসের ইতি টেনেছেন। তবে আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা, অনশন শেষ হলেও প্রতিবাদ কর্মসূচি থামছে না। অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুক নিজে এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার সিজেপির ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়। শুরু থেকেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের উদ্দেশে মিছিল এগোতেই পুলিশ তা আটকানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জও করা হয়। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেন যে, সোনম ওয়াংচুকের অনুরোধেই তিনি তাঁর অনশন প্রত্যাহার করছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর দাবি, হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও সোনম এখনও নুনজল ছাড়া অন্য কোনও খাবার গ্রহণ করছেন না এবং তাঁর অনশন অব্যাহত রয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন আইসা-র তিন সদস্য— নেহা বোরা, মণীশ কুমার এবং আমীন অমিতোজ। রবিবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। পাশাপাশি আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা, লিবারেশন দলের সাংসদ রাজারাম সিংহ এবং রাজস্থানের সাংসদ আমরা রামও অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিরোধী সাংসদরা আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেন, তাঁদের দাবিগুলি সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। সেই আশ্বাসের পরই নেহা বোরা, মণীশ কুমার এবং আমীন অমিতোজ সোমবার অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।