দিল্লি, নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ঘিরে রাজধানী দিল্লি উত্তপ্ত। ক্রমাগতই একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। আটক হয়েছেন একাধিক নেতৃত্বরা। আন্দোলন শুরুর আগেই আটক করা হয়েছে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে। রবিবার তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পরেই রবিবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে রীতিমতো সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন সিজেপি নেতৃত্বরা।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে একের পর এক তো থাকেন সিজেপির নেতৃত্বরা। এই সম্মেলন থেকেই তারা বলেন 'ভারত সরকার দেশের নাগরিকদের সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছে। তবে লড়াই এখানেই থামবে না, এই লড়াই চলবে'।
https://www.facebook.com/share/v/1VhJNe7KRQ/
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বরা। তাদের অভিযোগ, “আমাদের ফোন সম্ভবত হ্যাক করা হয়েছে। আমাদের এই আন্দোলনকে ভুল ভাবে পরিচালিত করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক ডেকে আমাদের সুষ্ঠু প্রতিবাদ কর্মসূচিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শিখ ভাই বোনদের উপর ইতিপূর্বেও অত্যাচার করা হয়েছিল এবারও সেই ঘটনা ঘটেছে। তবু আপনারা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ভাবেই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে”
“যে সমস্ত সাংবাদিকরা আমাদের জন্য কথা বলেছেন। আমাদের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছেন, তাদের ওপরও অত্যাচার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ নিপীড়িত হচ্ছে এই সরকারের আমলে।”
মোদি ও অমিতশা কে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, পুরো দেশে ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এই মধ্যে দিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার এত লড়াইয়ের পেছনে একজন রয়েছে তিনি হলেন জ্ঞানেশ কুমার। মোদি আর শা কে একটাই প্রশ্ন জ্ঞানেশ কুমার এর কাছে এমন কি তথ্য রয়েছে যার জন্য আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন? কেন তাকে বাঁচানোর জন্য এত চেষ্টা চলছে। ওনার কাছে কি ২০২৪ ও ২০২৬ এর ইলেকশনের এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা জানতে পারলে আপনাদের গদি চলে যেতে পারে? এত ভয় কিসের আপনাদের? একজনকে বাঁচাতে এত জনের উপর অত্যাচার কেন চলছে? কেন দিল্লিতে একটা প্রতিবাদ আটকাতে এত ব্যবস্থা নেওয়া হল? জ্ঞানেশ কুমার গণতন্ত্র শেষ করে দিয়েছে। ১৩ কোটি ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।"
"আমরা এর বিরোধিতা করতে নেমেছি। আমরা পিছনে হাটবো না। পুরো দেশের মানুষের কাছে অনুরোধ এই ঘটনার বিরোধিতা করতে হবে। সবাইকে একত্রিত হয়ে লড়াই করতে হবে। সবাইকে নিজে নিজের জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে হবে। এই সিস্টেম পুরোপুরি কোরাপটেড। সবকিছুই মোদি আর অমিত শা -এর কথামতো চলছে সবকিছু। "
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন , “যে সমস্ত মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা রাখবো, আগামীদিনেও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে। আজকেও সিজেপির বহু সমর্থককে আটক করা হয়েছে। তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আমরা চাইবো তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সকলের সামনে তুলে ধরুন কিভাবে তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার হয়েছে। ”
আমাদেরকে বারে,বারে সমস্যার মধ্যে ফেলা হচ্ছে। আমাদের প্রতিনিধিদের গাড়ি ফলো করা হচ্ছে। আমাদেরকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বারে, বারে। আমাদের মহিলা সদস্যদের গাড়ি ঘেরাও করা হচ্ছে। পুলিশকে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনও উত্তর দিতে পারছে না। কি অপরাধের জন্য আটক করা হচ্ছে সেটাও তারা জানাতে পারছে না তারা শুধু একটাই কথা বলছে, আমাদের উপর থেকে অর্ডার দেওয়া হয়েছে। "
“যে দেশে ক্রিমিনাল খোলা ভাবে ঘুরে বেড়ায় সেই দেশে ক্রিমিনালদের আটক করা হয় না। কিন্তু যারা প্রতিবাদ করতে মাঠে নামে তাদেরকে আটক করা হয়।”
এই সাংবাদিক সম্মেলনের পর স্পষ্ট। সিজেপি কোনওভাবেই এই আন্দোলন থেকে পিছু হাটবে না। আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তারা।
