কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিশুদের আকর্ষণ নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে উদ্যোগী হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দ্রুত রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
মাটির পুতুলের মাধ্যমে রামায়ণ, মহাভারত-সহ নানা কাহিনি তুলে ধরার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত এই মিউজিয়াম। ৯৬টি দেশের ১,১০০-এরও বেশি পুতুল রয়েছে এখানে। পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি মূর্তি নিয়ে তৈরি ‘গণেশ গ্যালারি’ও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের কাছেও কলকাতার এই সংগ্রহশালা দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়।
কিন্তু অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পুরনো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তৈরি হয়েছে সমস্যা। দ্রুত সেই ব্যবস্থা সংস্কার করা প্রয়োজন। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সংস্কারের বিপুল খরচ একা বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে মিউজিয়াম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
জুলাই মাসে এই সিদ্ধান্তের পর মিউজিয়ামের ডিরেক্টর সুদীপ শ্রীমাল রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। তাঁর প্রস্তাব ছিল, সরকার প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নিলে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। সেই আবেদনের পরই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এ বিষয়ে মিউজিয়ামের ডিরেক্টর সুদীপ শ্রীমাল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা হবে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য সম্ভাব্য সব পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ৯৯ বছরের লিজ নেওয়া জমিতে এই মিউজিয়াম তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ১৯৭২ সালের ১৪ নভেম্বর মিউজিয়ামটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশংকর রায় এর উদ্বোধন করেছিলেন। বর্তমানে ‘ন্যাশনাল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর পরিচালনায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও বিপুল সংগ্রহের কারণে কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামের বিশেষ জায়গা রয়েছে। তাই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে কীভাবে মিউজিয়ামটি সচল রাখা যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শিশুপ্রেমী ও শহরবাসী।




