ভবিষ্যতে রাজ্য বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়তে পারে। কেন্দ্রে সম্ভাব্য 'ডিলিমিটেশন' বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার পর সেই পরিস্থিতির জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমান ঐতিহ্যবাহী বিধানসভা ভবনে ভবিষ্যতে বাড়তি সংখ্যক বিধায়কের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে। তাই নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির বিষয়টিও ভাবা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নতুন বিধানসভা তৈরি করতে হবে, লোকসভার মতো। ডিলিমিটেশন বা মহিলা সংরক্ষণের পরে আসন বাড়বে। এটা হেরিটেজ বিল্ডিং, ৪০০ সদস্য হলে এখানে বসা যাবে না। অর্থমন্ত্রীকে সাক্ষী রেখে বলছি, অর্থের কোনও অসুবিধা হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্র যদি ডিলিমিটেশন বিল আনে এবং তার ভিত্তিতে লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যের বিধানসভাগুলির আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়, তবে পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও কেন্দ্র কবে ডিলিমিটেশন বিল আনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শুধু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাই নয়, এদিন বিধানসভার কার্যক্রম নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, বিধানসভায় তাঁদের জন্য যে ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে, তা শুধুমাত্র নেমপ্লেট লাগানোর জন্য নয়। সেখানে বিধায়কদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে হবে এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রতি বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতর সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব হবে এবং তিনি নিজেও প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমাকে প্রশ্ন করবেন, আমি উত্তর দেব। পুলিশ নিয়ে প্রশ্ন হবে না, এমনটা হবে না। সংবিধানের উপর আস্থা থাকলে সামনে থাকবেন।”
মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়েও কড়া নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অধিবেশন চলাকালীন অন্তত সাত জন মন্ত্রীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় সংখ্যক মন্ত্রী উপস্থিত না থাকলে অধিবেশন স্থগিত রাখার কথাও বলেন তিনি।
এছাড়া বিধায়কদের উপস্থিতির তথ্য বিধানসভার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক বিধায়ককে অধিবেশনে দেখা যাচ্ছে না, যদিও তাঁরা নিজেদের এলাকার মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন পাচ্ছেন। বর্তমানে সমস্ত কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় জনগণ সবই দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




