নয়াদিল্লি: শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছিল। তার পরেও আন্দোলন থেকে সরে আসছে না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রবিবার সকালে ফের যন্তর মন্তরের উদ্দেশে জমায়েত ও মিছিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলের কর্মী-সমর্থকেরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে সিজেপি। শনিবারের পুলিশি পদক্ষেপের পর রবিবারের কর্মসূচি ঘিরে তাই নতুন করে নজর দিল্লির রাজনৈতিক মহলে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ কয়েক জন নেতাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা। বিমানযোগে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরেই অভিজিৎ ও তাঁর সঙ্গীদের আটক করা হয় বলে দাবি দলের। একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও বহু আন্দোলনকারীকে আটক করার অভিযোগ ওঠে।
শনিবারের ঘটনার পরেই সিজেপি নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, ধরপাকড়ের কারণে আন্দোলন থামবে না। দলের জাতীয় সংগঠন বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক্য শিন্দে বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করা হবে। তাঁর দাবি, পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নিরস্ত করার চেষ্টা হলেও তাতে কর্মসূচি প্রত্যাহারের প্রশ্ন নেই। রবিবার সকালে ফের জমায়েতের প্রস্তুতি সেই ঘোষণারই পরবর্তী ধাপ।
দলের অভিযোগ, আটক নেতাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার মৃত্যু হলেও তাঁকে শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছে সিজেপি। পুলিশি হেফাজতে তাঁর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দল। এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা জরুরি। তবে সিজেপি নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট—আটক নেতাদের মুক্তি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের অপসারণের দাবি সামনে রেখেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
সিজেপির আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। দলের অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাইছে তারা। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবারের ধরপাকড়ের পর আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। সিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বিক্ষোভে বাধা দিয়ে বা নেতাদের আটক করে তাদের দাবি থেকে সরানো যাবে না। সেই কারণেই রবিবার ফের যন্তর মন্তরের উদ্দেশে জমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, এই আন্দোলন কোনও এক দিনের কর্মসূচি নয়; দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে।
সিজেপির পাশাপাশি আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে একাধিক ছাত্র সংগঠন। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রতিবাদকে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমাতে আটক ও পুলিশি বাধার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
সৃজনের বক্তব্য, রবিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রদের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হতে পারে। যন্তর মন্তরে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হলে অন্য জায়গাতেও প্রতিবাদ সংগঠিত করার কথা ভাবছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে রবিবারের কর্মসূচি শুধু সিজেপির জমায়েতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তাতে অন্য সংগঠনগুলিও যোগ দেবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ব্যারিকেড, পুলিশি নজরদারি এবং জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের কারণে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষকে আটক করার দাবিও করেছে সিজেপি। রবিবারের কর্মসূচিতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় এবং আন্দোলনকারীরা কতটা জমায়েত করতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর।
সিজেপি নেতৃত্বের ঘোষণা, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শনিবারের ধরপাকড়ের পর রবিবার সকালে ফের যন্তর মন্তরের পথে জমায়েতের প্রস্তুতি সেই অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আটক নেতাদের মুক্তি, বিক্ষোভের অনুমতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে দিল্লিতে আন্দোলনের পরবর্তী পর্ব কোন দিকে এগোয়, তা স্পষ্ট হবে দিনের কর্মসূচির পর।
