কোচবিহার, নিউজ ডেস্ক: কখনও আকাশে উড়তো বিমান, তারপরে আচমকায় থেমে যায় সেই দৃশ্য। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা, নানা প্রশ্ন আর ফের পরিষেবা শুরু হওয়ার আশায় দিন গুনেছেন জেলার মানুষ। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে বলে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। শুধু বিমান ফিরবে কি না, তা নয় বরং ফিরলে তার চেহারাও বদলে যেতে পারে। ছোট বিমানের বদলে এবার আকাশ পথে আরও বেশি যাত্রী নিয়ে চলার প্রস্তুতি।
পরিবর্তনের বাংলায় আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের 'উড়ান' প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে নতুন করে চারটি বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেরই অংশ হিসেবে সোমবার নবান্নের সভা ঘরে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আর এই উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আসার আলো দেখছেন কোচবিহারের বাসিন্দারা। ২০২৩ সালে কোচবিহার থেকে বিমান পরিষেবা শুরু হয়েছিল। কিন্তু, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেই পরিষেবা বন্ধ হয়েছে। ফলে, কলকাতা সহ রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হারিয়েছেন জেলার মানুষ। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ, অনেকেরই যাতায়াতের ভারতীর সময় ও খরচ দুটোই হচ্ছিল।
এবার সেই পরিস্থিতিতে বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রে খবর, কোচবিহার থেকে ফের বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, এবার ৯ আসনের ছোট বিমানের পরিবর্তে ৭২ আসনের বিমান চলাচলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু রানওয়ে নয় যাত্রী পরিষেবা ও অন্যান্য পরিকাঠামো নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান পরিষেবা ফের চালু হলে কোচবিহারের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করেছেন ব্যবসায়ী মহল। তাঁদের বক্তব্য, ব্যবসার কাজে কলকাতা বা অন্যত্র যেতে বর্তমানে সড়ক ও রেলপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে, অনেক সময় এক দিনের কাজের জন্যও অতিরিক্ত সময় হাতে রাখতে হয়। বিমান চালু হলে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
শুধু ব্যবসা নয়, পর্যটন ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেছেন স্থানীয়রা। কোচবিহারের রাজবাড়ি, ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাইরের পর্যটকদের আনাগোনার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, দীর্ঘদিন থমকে থাকা বিমান পরিষেবা যদি নতুন পরিষেবা ও ৭২ আসনের বিমান নিয়ে ফের আকাশে ওড়ে তবে, কোচবিহারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় তা নতুন অধ্যায়ের সুযোগ করতে পারে।
