নিউজ ডেস্ক: কোচবিহারে বিমানবন্দর নিয়ে নতুন করে আশার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কোচবিহার সফরে গিয়ে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন তিনি। এরপর জেলার প্রশাসনিক বৈঠক ও উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিমানবন্দর প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কোচবিহারে বিমান পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
কোচবিহারে বিমানবন্দর নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু জানান, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় কোচবিহারের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে আগামী দিনে কোচবিহার বিমানবন্দরকে ঘিরে নতুন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
কোচবিহার জেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কোচবিহার বিমানবন্দরটি ১৪৪ একর জমির উপর অবস্থিত এবং সেটিকে কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান চালু বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হল বাগডোগরা বিমানবন্দর।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে শুধু বিমানবন্দর নয়, কোচবিহারের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও উঠে এসেছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে রেল, বিমান, বাস পরিষেবা এবং পর্যটকদের থাকার জন্য উন্নত পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
কোচবিহারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্যপ্রাণ এবং ধর্মীয় স্থানকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যেতে পারে। তাঁর পরিকল্পনায় একদিকে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ দেখতে আসা পর্যটক, অন্যদিকে ধর্মীয় পর্যটক দুই ধরনের দর্শনার্থীর কথাই রয়েছে। এই পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং থাকার পরিকাঠামো উন্নত করার উপর জোর দেন তিনি।
কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরও জেলার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্রগুলির একটি। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মন্দিরটি কোচবিহার শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের আমলে নির্মিত হয়েছিল।
এদিনের সফরে কোচবিহারের উন্নয়নের জন্য সময় দেওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমেও জেলার জন্য বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহার সফর ঘিরে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে কোচবিহারে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হবে, নাকি বর্তমানে থাকা বিমানবন্দরকেই আরও উন্নত ও কার্যকর করা হবে—এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিস্তারিত প্রকল্প ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্র ও রাজ্যের আলোচনার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে রাজ্যে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য আরও কয়েকটি বিমানবন্দর নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগও চলছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুরুলিয়া, বালুরঘাট, হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডায় বিমান যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।
ফলে কোচবিহার সফরে শুভেন্দু অধিকারীর বিমানবন্দর সংক্রান্ত মন্তব্য উত্তরবঙ্গে বিমান যোগাযোগের পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর কেন্দ্র-রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্প ঘোষণা হয় কি না, সেদিকে।