কোচবিহার, রেশমি ব্যানার্জি: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কোচবিহার থেকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতরের পর একের পর এক চাঞ্চল্য তথ্য উঠে আসছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন রশিদুল হক, মহম্মদ সাফিকুল ইসলাম এবং নূর নাসিরউদ্দিন আলী। তদন্তকারীদের দাবি, সীমান্তের পাচারচক্রকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় সিম, জাল নোট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক ছিল।
তদন্তে উঠে আসে আরও এক এক চাঞ্চল্যকর তথ্য , ভারতীয় সেনার শিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা আর্মি ওয়েলফেয়ার এডুকেশন সোসাইটি (AWES) এর নাম ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়ো প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিচয় কাজে লাগিয়ে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও খোলা হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বাসযোগ্য গড়ে তুলতেই ভারতীয় সেনার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিভিন্ন সূত্রে খবর, ভুয়ো পরিচয়ের আড়ালে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে সেনা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেনার গতিবিধি, অবস্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে, ঠিক কি কি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেই তথ্য কোথায় পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রে খবর, ধৃতদের দ্বারা একাধিক ভারতীয় সিম বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, পাকিস্তানের মাটিতে বসে ভারতের বিভিন্ন সেনা ছাউনিতে যোগাযোগের জন্য এই ভারতীয় সিম ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এমনকি, সেনা জওয়ান ও আধিকারিকদের ফোন করে হানিট্র্যাপের মতো কৌশলে ফাঁদে ফেলার চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে।
ধৃতদের মধ্যে রশিদুল হককে এই নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিভ বলে সন্দেহ করছে এস টি এফ। পুলিশের জেরায় সে জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জাল ভারতীয় নোট পাচারের সঙ্গে সে যুক্ত ছিল। তদন্তে, প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার জাল নোটের লেনদেনের কথা উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে । তার একাউন্টে টাকা পাঠানোর তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে সূত্রে খবর।
রসিদুলসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করেছেন তদন্তকারীরা। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না,ভুয়ো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কতদিন ধরে যোগাযোগ চলছিল এবং পাকিস্তানের কোন গোয়েন্দাচক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না-এই সমস্ত বিষয়ে তদন্তের আওতায় রয়েছে।
কোচবিহারের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলায় ঘটনাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুয়ো প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল একাউন্ট ব্যবহার করে কিভাবে সেনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল সেই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন তদন্তকারীদের নজরে। ধৃতদের জেরা এবং ডিজিটাল নথি পরীক্ষা শেষ হলে এই গুপ্তচরচক্রের তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃতদের বয়ান থেকে আরও বড় নেটওয়ার্কের হদিস মিলতে পারে।