ডোমকল, রেশমি ব্যানার্জি: বিধায়কের কাছে অভাব-অভিযোগ জানাতে আর দলীয় কার্যালয়ে ছুটতে হবে না। হাতে থাকা মোবাইল থেকেই এবার সরাসরি বিধায়ককে জানানো যাবে এলাকার সমস্যা। ডোমকলে নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়ে এলো সিপিএম। চালু করা হল 'আমার ডোমকল পোর্টাল'। মঙ্গলবার এই অনলাইন পরিষেবার উদ্বোধন করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সিপিএমের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় এখানে কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না। জানা গিয়েছে, এই পোর্টালের মাধ্যমে এলাকার যে কোনও মানুষ সরাসরি ডোমকল বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার কাছে নিজেদের সমস্যা ও দাবির কথা জানাতে পারবেন। তার জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র মোবাইল ফোন। নির্দিষ্ট QR কোড স্ক্যান করলে খুলে যাবে পোর্টাল। এরপর অনলাইনে পাঠানো যাবে অভিযোগ বা দাবি। পানীয় জলের সমস্যা, রাস্তা বেহাল, নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, বা এলাকার অন্য যে কোনও পরিসেবা নিয়ে অভিযোগ, সবকিছুই জানানো যাবে এই অনলাইন প্লাটফর্মে। শুধুমাত্র অভিযোগ গ্রহণ করেই বিষয়টি শেষ হবে না। অভিযোগ আসার পর বিধায়ক কি পদক্ষেপ নিলেন, সেই তথ্যও পোর্টালের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের দাবি, দলমত নির্বিশেষে ডোমকলের প্রত্যেক বাসিন্দায় এই পোর্টাল ব্যবহার করতে পারবেন। এতে নাগরিক পরিষেবা অনেক মসৃণ হবে। মানুষদের সমস্যা মিটবে দ্রুত।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন,“রাজ্যে প্রথম কোনও বিধানসভায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হল। ডোমকলের যে কোনও মানুষ, তিনি যে রাজনৈতিক দলের সমর্থক হোন না কেন, সমস্যার কথা বিধায়ককে জানাতে পারবেন। বিধায়ক সেই মতো প্রশাসনকে জানাবে। কারও সমস্যার প্রেক্ষিতে বিধায়ক কি পদক্ষেপ গ্ৰহন করলেন, সেটাও এই পোর্টালে জানাবেন বিধায়ক। আমরা প্রত্যেক সপ্তাহে নজরদারি চালাব।” শুধু জনসংযোগ নয় এই উদ্যোগের পিছনে রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। ২০২১ সালে বিধানসভায় বামেদের কোনও আসন ছিল না। ২০২৬ সালের বিধানসভায় ডোমকলের হাত ধরে বিধানসভায় জায়গা ফিরে পেয়েছে সিপিএম।
এই পরিস্থিতিতে ডোমকলকে কেন্দ্র করে সিপিএমের এই নতুন ডিজিটাল পরিষেবাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেছে রাজনৈতিক মহল। সপ্তাহে নিয়মিত পোর্টালের কাজকর্ম পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছেন সেলিম। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন যেখানে 'জনতার দরবার' ছিল রাজনৈতিক জনসংযোগের অন্যতম মাধ্যম, এবার সিপিএম সেই জায়গায় ডিজিটাল জনতার দরবার তৈরি করার পথে হাঁটলো। ডোমকলকে সামনে রেখে রাজ্যে সিপিএমের রাজনৈতিক কৌশল কতটা সফল হয়, এখন নজর সেদিকেই সাধারণ মানুষের।